চীনের প্রস্তাবিত হাসপাতাল গাইবান্ধায় স্থাপনের দাবি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৪৭ পিএম

চীনের অর্থায়নে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গাইবান্ধায় স্থাপনের দাবিতে সংহতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় শুরু হওয়া কর্মসূচি চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। গাইবান্ধা সাধারণ ছাত্র-জনতা ব্যানারে শহরের পৌরপার্ক শহিদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে জেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণসহ নানা পেশার মানুষ অংশ নেয়।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মাইনুল হাসান সাদিক, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ ও সহ সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান, চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকছুদুর রহমান শাহান, আইনজীবী সেকেন্দার আজম আনাম, সাংস্কৃতিক কর্মী আলমগীর কবির বাদল, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সামাদ আজাদ, শিক্ষার্থী ফিহাদুর রহমান দিবস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রংপুর বিভাগের অবহেলিত জেলা হচ্ছে গাইবান্ধা। এ জেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের বসবাস। তবে জেলায় কোনো ভারী শিল্প কারাখানা নেই। নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজ। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও চরবেষ্টিত মানুষগুলোকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর, বগুড়া বা ঢাকায় যেতে হয়। সম্প্রতি চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে যে ১ হাজার শয্যার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের আলোচনা চলছে, সেটি নিরক্ষরমুক্ত পিছিয়ে পড়া গাইবান্ধায় স্থাপনের দাবি জানান।

এসময় বক্তারা সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও গাইবান্ধা জেলার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলায় শত শত একর অনাবাদি সরকারি-বেসরকারি জমি পড়ে আছে। জেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৩৫ বিঘা জমির ওপর রামচন্দ্রপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এ হাসপাতালে এক সময় ১০ শয্যায় চিকিৎসা চললেও অজানা কারণে ২০১৮ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া জেলার ব্যক্তি মালিকানা অনেক নির্ভেজাল জমি রয়েছে। সরকার যদি গাইবান্ধাতে হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জমি দিতে প্রস্তুত এ জেলার মানুষ।

জেলায় প্রায় ১৬৫টি চর রয়েছে। তিন লাখের বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করে। সেখানে উন্নত চিকিৎসা প্রায় নেই বলে চলে। শুধুমাত্র উন্নত চিকিৎসার অভাবে একজন গর্ভবতী প্রসূতি মারা যাওয়ার ঘটনা রয়েছে এ জেলায়। জেলার মানুষ অসুস্থ হলেই চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় বগুড়া, রংপুরে। হাসপাতাল যাওয়ার পথেই অনেক রোগীর মারা যান। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের বেহাল অবস্থা। তাই গাইবান্ধায় প্রস্তাবিত চীনের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি স্থাপিত হলে পথে আর মানুষ প্রাণ হারাবে না। এগিয়ে যাবে জেলার মানুষ, সমৃদ্ধ হবে তাদের জীবনযাত্রার মান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত