চলতি বছর হজ পালনের উদ্দেশে যারা সৌদি আরব যাচ্ছেন তাদের জন্য কঠোর নিয়ম জারি করেছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, হজ পালনের জন্য অবশ্যই ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পারমিট (অনুমতিপত্র) সংগ্রহ করতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মের বাইরে কেউ হজের অনুমতি পাওয়ার দাবি করলে তা প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হজ ক্যাম্পেইনের নামে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে পবিত্র স্থানগুলোতে আবাসন ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা রয়েছে। মন্ত্রণালয় এসব ভুয়া বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারণামূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য জানাতে মক্কা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯১১ এবং অন্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা নিজ নিজ দেশের কর্র্তৃপক্ষের কাছেও জানাতে বলা হয়েছে।
হজ মৌসুমকে ঘিরে সৌদি আরব ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে ২৯ এপ্রিলকে ওমরাহ ভিসাধারীদের সৌদি আরব ত্যাগের শেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর কেউ ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে, ২৩ এপ্রিল থেকে হজ সংক্রান্ত কঠোর নিয়মকানুন কার্যকর হবে। সে অনুযায়ী, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে বাসিন্দা হোক বা কর্মরত, সবাইকে বৈধ প্রবেশ অনুমতিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বৈধ পারমিট ছাড়া মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা চৌকিতে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
হজ মৌসুমে যারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য ‘আবশের ইন্ডিভিজুয়ালস’ ও ‘মুকিম’ পোর্টালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক অনুমতিপত্র ইস্যু করা হবে। এসব প্ল্যাটফর্ম একীভূত ডিজিটাল হজ পারমিট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে, চলতি বছর হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্র্তৃপক্ষ পূর্বের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে হজ করার চেষ্টা করলে নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনটিই সাফ জানিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
