অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ ৩ মাস

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৫ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ৫ প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীরা তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কারিগরি অধিদপ্তরে স্থানান্তর জটিলতায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। অধিদপ্তর থেকে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে তারা ডিসেম্বর মাসের বেতন পেলেও জানুয়ারি মাস থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এসব শিক্ষক-কর্মচারী।

এদিকে এসব শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদুল ফিতর কেটেছে হতাশায়।  এখন ঈদুল আজহার আগেও তাদের বেতন ভাতা পাওয়া নিয়ে বড় সংশয় দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, ২০১০ সালের পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত কারিগরি এসব শিক্ষক-কর্মচারী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হয়ে ওই অধিদপ্তরের অধীনে বেতন ভাতা পান। পরে কারিগরি অধিদপ্তর আলাদা করা হলে মাউশি থেকে কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের কারিগরি অধিদপ্তরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নানা জটিলতায় স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় আটকে গিয়ে কারিগরি এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা মাউশির অধীনেই দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন। সম্প্রতি ইএফটির মাধ্যমে মাউশি থেকে ডিসেম্বর মাসের বেতন-ভাতা তারা পেয়েছেন। হঠাৎ করেই জানুয়ারি মাসের ইএফটি তালিকায় তাদের নাম না দেখে শিক্ষক-কর্মচারীরা হতবাক হন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও সমাধান পাচ্ছেন না। এদিকে ঈদের আগে ইএফটি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী এসব কারিগরি শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, এমনকি উৎসব ভাতা দেওয়া হয়নি। তারা আরও জানান, সারা দেশে ৬৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এমন জটিলতায় তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এর মধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত শিক্ষক-কর্মচারী এমন সমস্যায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরও জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে তিথলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নেকবর হোসেন বলেন, ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীরা ডিসেম্বর মাসের বেতন পেয়েছেন। এরপর জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের বেতন তারা পাননি। সারা দেশে ৬৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে। তিনি দ্রুত এ সমস্যার সমাধানের দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত