বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০২:৪৪ পিএম

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। এই স্বপ্ন সফল করতে চাই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ধারণা। তাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়। বিদেশে পড়তে যেতে চাইলে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে আগে থেকেই। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আগে থেকে যেসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে সে সম্পর্কে লিখেছেন নাহিদুল ইসলাম গাজী

পাসপোর্ট তৈরি

বিদেশে পড়তে গেলে আগ্রহী শিক্ষার্থীকে অবশ্যই পাসপোর্ট করতে হবে। কারণ পাসপোর্ট ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী দেশের বাইরে যেতে পারবে না। তাড়াহুড়ো করে পাসপোর্ট তৈরি করতে গেলে যেহেতু অতিরিক্ত ফি দিতে হয় তাই সময় থাকতেই পাসপোর্ট করে ফেলা উচিত। সময় থাকতে পাসপোর্ট করলে শিক্ষার্থীর আরেকটি সুবিধা হয়। তা হলো, পাসপোর্টে যদি নাম, বাবা-মায়ের নাম বা অন্য কোনো তথ্যের ভুল বা বানান ভুল থাকে তাহলে সংশোধনের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।

সব কাগজে নাম ও নামের বানান হতে হবে এক

নতুন জায়গায় শিক্ষার্থীর নামই হচ্ছে তার পরিচয়। দাপ্তরিক কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, শিক্ষাগত সনদপত্র, জন্মসনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন কোর্সের সনদপত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র প্রভৃতি প্রতিটি জায়গায় শিক্ষার্থীর নাম, তার বাবা-মায়ের নাম একই হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এক হলেই নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হবে যে, এই কাগজপত্রগুলো একই ব্যক্তির। এক্ষেত্রে নামের বানান সব কাগজপত্রে একই হতে হবে। শিক্ষার্থীর সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সংগ্রহ করতে হবে। সে অনুযায়ী এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক প্রভৃতি পর্যায়ের প্রতিটি সনদপত্র সংগ্রহে রাখতে হবে। প্রতিটি কাগজপত্র মিলিয়ে দেখতে হবে নাম ও নামের বানান, স্থায়ী ঠিকানা প্রভৃতি একই আছে কি না। না থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।

ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি

বিদেশে পড়াশোনা করতে হলে সে দেশের বা আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়ার সুযোগ বা বৃত্তি প্রদানের আগে দেখে নেয় ওই শিক্ষার্থীর ভাষাগত যোগ্যতা। আইইএলটিএস (IELTS) হচ্ছে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পরীক্ষা। যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি না এই পরীক্ষা মূলত তাদের জন্য। কাক্সিক্ষত স্কোর অর্জন করতে অনেকের বেশ সময় লেগে যায় বলে এর প্রস্তুতি বেশ আগে থেকেই নেওয়া ভালো। ফুল-ফান্ড বা ভালো ধরনের স্কলারশিপ পেতে হলে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য SAT ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জন্য GRE/GMAT  পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।

স্টেটমেন্ট অব পারপাস

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে কিছু কাগজপত্র নিজেই লিখতে হবে। তেমনি একটি হলো স্টেটমেন্ট অব পারপাস। এই নথিতে শিক্ষার্থীকে নিজেই লিখতে হয় এই বিষয়ে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাওয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী। এই কাগজপত্রে উল্লেখ করা শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও ওই দেশের কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তবেই মিলবে পড়ার অনুমতি বা সে দেশের ভিসা। সে জন্য SOP বা স্টেটম্যান্ট অব পারপাস ঠিকভাবে লেখা ও উপস্থাপন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রেকমেন্ডেশন লেটার

রেকমেন্ডেশন লেটার হলো, এমন এক ডকুমেন্ট বা চিঠি, যেখানে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীর প্রাক্তন শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা, বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস সম্পর্কিত তথ্য এবং গুণাবলি উল্লেখ করে থাকেন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে আবেদনের জন্য ২ থেকে ৩ জন শিক্ষকের সুপারিশপত্র বা রেকমেন্ডেশন লেটার লাগবে। তাই বিদেশে পড়তে যাওয়ার ৬ মাস আগেই আপনার যেসব শিক্ষকরা আপনাকে সবচেয়ে ভালো চেনেন ও আপনার সম্পর্কে ভালো জানেন তাদের থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার লিখে সংগ্রহ করে রাখুন।

সুযোগ-সুবিধার তথ্য জানা

বিদেশে পড়তে চাইলে আগে থেকেই কোন দেশে পড়তে চান তা ঠিক করুন। প্রথমে পছন্দের দেশগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিন। আবহাওয়া, খরচ, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অনলাইনে খোঁজ নিন। এরপর সেই দেশের সেই অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নিন। বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশগুলোর সরকারিভাবে কিছু সুযোগ-সুবিধা থাকে। এসব বিষয়ে তথ্য জানার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত সেসব দেশের দূতাবাসে খোঁজ নিন। তা ছাড়া কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা আগে সেসব দেশে বা  বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে এবং তারা কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা অনুসরণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি

পছন্দের দেশগুলোর কমপক্ষে পাঁচটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করুন। তালিকা তৈরির আগে অবশ্যই আপনি কমপক্ষে প্রতিটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ভালোভাবে জেনে তারপর তালিকা তৈরি করবেন। তালিকা করার সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের বিষয়, আবাসন খরচ, অবসরে কাজের সুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি আপনার সামর্থ্যরে মধ্যে আছে কি না প্রভৃতি বিষয়ে যথাসম্ভব বিস্তারিত জানার চেষ্টা করতে হবে। বিষয় নির্ধারণের সময় খেয়াল রাখবেন বিষয়টি যেন আপনার আগের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে। তালিকায় স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন কোন সময়ে আবেদন গ্রহণ করে নোট করে রাখুন। নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

অন্যান্য দক্ষতা অর্জন

বিদেশে শুধু পড়াশোনা না, অন্যান্য দক্ষতাও বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। উচ্চশিক্ষার জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রম বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতার সনদ বা পুরস্কার বেশ গুরুত্ব বহন করে। এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সনদ অর্জন করে নিজের প্রোফাইল ভারী করার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। তা ছাড়া কম্পিউটারের কিছু বেসিক প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা অর্জন, ড্রাইভিং শেখা, লেখালেখি করা, খেলাধুলায় দক্ষতা, ক্লাব অ্যাক্টিভিটিস, বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করা, আবেদনে উল্লিখিত বিষয়ের ওপর শর্ট কোর্স করে রাখা বা প্রাথমিক চিকিৎসার কৌশল জেনে রাখলে বিদেশ বিভুঁইয়ে কাজে দেবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত