স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্যতা

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২৭ এএম

সাকিফ শামীম

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড ক্যানসার

হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ অনেকাংশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং বিবর্তনশীল স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ ডাক্তার, গবেষক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে, বাংলাদেশ পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মেডিকেল এডুকেশনের জন্য বিদেশ ভ্রমণ করছে। তারা এসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা ব্যয় করছে। এটি কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং মেধারও অপচয়, কারণ এই স্নাতকদের বেশিরভাগই আর দেশে ফিরে আসে না। অথচ, এ দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে, বেসরকারি মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়গুলো এই ধারা পরিবর্তন করতে পারে। এর প্রভাবে আমাদের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশেই থাকবে এবং আমাদের দেশের মানুষের সেবা করবে। 

বেসরকারি খাত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব এনেছে, কিন্তু এখনো অনেক পথচলা বাকি। তাই এই একই ধারণা চিকিৎসা শিক্ষাতেও প্রসারিত করা উচিত। বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে যেখানে শিক্ষা, গবেষণা এবং চিকিৎসা পদ্ধতি একসঙ্গে কাজ করতে পারে এবং এমন ডাক্তার তৈরি করতে পারে, যারা একাডেমিক দিক থেকেও সেরা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা প্রদানেও দক্ষ। এটি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার চিকিৎসা শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।  

বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চিকিৎসা গবেষণাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য যদি আমরা নিজেদের গবেষণায় বিনিয়োগ করি তাহলে আমাদের বিদেশি গবেষণা এবং অধ্যয়নের ওপর আর নির্ভর করতে হবে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে উন্নত করেছে এবং আমি বিশ্বাস করি যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চিকিৎসা শিক্ষায় একই কাজ করবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ মূলত উন্নত চিকিৎসা গবেষণার ওপর নির্ভরশীল এবং বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়াও চিকিৎসা ক্ষেত্র শুধু ডাক্তার এবং নার্সদের নিয়ে গঠিত নয়। এটি একটি বিশাল ব্যবস্থা, যেখানে হাসপাতাল প্রশাসন, মেডিকেল প্রযুক্তি, রোগ নির্ণয়, টেলিমেডিসিন, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যনীতি অন্তর্ভুক্ত। এই খাতে সেবা দেওয়ার জন্য, বাংলাদেশের এমন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট দরকার, যারা শুধু তাদের শিক্ষায় ভালো নয়, বরং চাকরির জন্যও প্রস্তুত। বেসরকারি মেডিকেল স্কুলগুলো এমন কোর্স তৈরি করতে পারে, যা বিভিন্ন বিভাগকে একত্রিত করে, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করে এবং হেলথকেয়ার কোম্পানি ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে উৎসাহিত করে। শিল্পের প্রয়োজনের ওপর এ ধরনের মনোযোগ নিশ্চিত করে যে, স্নাতকরা অবিলম্বে সাহায্য করতে প্রস্তুত, যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের উৎপাদনশীলতা, পরিষেবার গুণমান এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত