বিএমইউর সভায় তথ্য

শহরে প্রতি ১০ হাজারে ২৫ শিশু অটিজমে আক্রান্ত

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

দেশে গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরাঞ্চলে মস্তিষ্কের বিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতা বা  অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) চিকিৎসকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম’ (ইপনা) এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে ১৬-৩০ মাস বয়সী প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে ১৭ জন বা প্রতি হাজারে ১ দশমিক সাতজন এবং শহরে প্রতি ১০ হাজারে ২৫ জন বা প্রতি হাজারে ২ দশমিক পাঁচজন শিশু অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। শহরে প্রতি ১০ হাজারে ২৫ শিশু অটিজমে আক্রান্ত

গতকাল শনিবার বিএমইউতে অনুষ্ঠিত ইপনার বোর্ড অব গভর্নরসের পঞ্চম সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, ছেলেদের মধ্যে আক্রান্তের হার মেয়েদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ ছাড়া মায়ের বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে এবং উচ্চ অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা পরিবারের মধ্যে এএসডির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

সভায় বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ইপনার মতো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে দেশের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

সভায় ইপনার চিকিৎসকরা বলেন, যদি শুরুতেই অটিজম শনাক্ত করা যায়, তা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে অটিজমের মাত্রা কমানো যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুর তিন বছরের সময় অটিজম শনাক্ত করা গেলে ভালো। শিশুর বিকাশ হয় প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে। তাই শিশুর বিকাশের বয়সের মধ্যেই যদি অটিজম বৈশিষ্ট্য আসা মাত্রই তাদের ইন্টারভেনশন দিই ও ব্যবস্থা নিই, তাহলে অটিজমের মাত্রা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। যদি অটিজমের মাত্রা কমাতে পারি, তাহলে তার প্রতিবন্ধিতা কমবে এবং ওই বাচ্চা সাধারণ স্কুলে যেতে পারবে ও তাদের মেধা কাজে লাগানো যেতে পারে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত