মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনের সদস্যরা এই দাবি জানান।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিপ্লব-পরবর্তী আট মাস পার হওয়ার পরও এই হত্যা মামলার রায় কার্যকরের কোনো পদক্ষেপ দেখতে পারিনি। আশা করছি মেজর সিনহা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের চলমান শুনানি আগামী সপ্তাহেই শেষ হবে এবং উচ্চ আদালত প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখবে।’
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলি করে হত্যা করা হয় সিনহা মো. রাশেদ খানকে। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণবিষয়ক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডের দায়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীর ফাঁসির রায় দেয় কক্সবাজারের বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল উচ্চ আদালতে এই হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
সিনহা হত্যায় বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার কথা জানিয়ে মেহেদী হাসান বলেন, ‘তারা আমাদের বলেছে আগামী চার মাসের মধ্যে এটা শেষ করে ফেলবে। আমরা চাই কার্যক্রমটা অতি দ্রুত শেষ হোক। যদি সম্ভব হয় সেটা ১৫ দিনের মধ্যে শেষ হোক। আশা করছি, সেখানেও রায়টা বহাল রাখবেন এবং রায় দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে কার্যকর করতে হবে।’
এদিকে, সিনহার মা নাসিমা আক্তার ও বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসও রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট হব সেদিনই, যেদিন এই রায় কার্যকর হবে।’
সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘সাতজনকে একেবারে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমার কাছে মনে হয়েছে, সেটা তো সম্ভব না। দায়বদ্ধতা তো কেউ এড়াতে পারে না, সে ক্ষেত্রে হয়তো তাদের কিছু সাজা হলেও হতে পারত।’
সিনহা হত্যা মামলার রায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়। রায়ে টেকনাফ সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড, তিন পুলিশ সদস্য ও তিন সোর্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি চলমান রয়েছে এবং মামলার পেপারবুক প্রস্তুতির কাজ চলছে।
