পটুয়াখালীর দুমকিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী লামিয়া আক্তার (১৬) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মাপুর শেখেরটেক ৬নং রোডে তার মায়ের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন লামিয়ার চাচাতো চাচা কালাম হাওলাদার।
কালাম হাওলাদার জানান, চলতি বছরের ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগি থেকে পাশের গ্রামে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন লামিয়া। স্থানীয় মামুন মুন্সীর বখাটে ছেলে সাকিব (১৯), সোহাগ মুন্সীর ছেলে সিফাত (২০) এবং আ. মালেক মুন্সীর ছেলে ইমরান (১৯) তাকে নির্জন বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন ১৯ মার্চ ওই কলেজছাত্রী ইমরানকে বাদ দিয়ে সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীকে আসামি করে দুমকি থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
ধারণা করা হয়, প্রেমের সম্পর্ক থাকায় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে ইমরানকে মামলা থেকে বাদ রাখা হয়েছিল। পুলিশ সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করে এবং বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।
এই কলেজছাত্রী, সামাজিক চাপ ও লজ্জা এড়াতে, মায়ের সাথে ঢাকায় গিয়ে শেখেরটেকের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি, প্রেমিক ইমরান তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে গতকাল শনিবার রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের স্বজনরা।
প্রসঙ্গত, জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ গুলিতে ঢাকায় শহীদ হন আলগি গ্রামের জসিম হাওলাদার। তার মেয়ে, সরকারি জনতা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী, ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে, সাকিব মুন্সী এবং সিফাত মুন্সীকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
হঠাৎ পানি ছেড়ে দিলো ভারত, পাকিস্তানের কাশ্মিরে বন্যা
কাল বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড কুড়িগ্রাম