কবি দাউদ হায়দার আর নেই

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৬ এএম

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি রিহ্যাবিলিটেশন হোমে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লন্ডনে প্রবাসী নাট্যশিল্পী ও সংগঠক স্বাধীন খছরু এ খবর নিশ্চিত করেন।

বার্লিনের সংস্কৃতিকর্মী ও কবির স্নেহভাজন মাইন চৌধুরী পিটু জানান, দাউদ হায়দার গত ডিসেম্বর মাস থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা ভুগছিলেন, যার জন্য তাকে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে, তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ বার্লিনে দাফন করা হবে, তবে শেষ বিদায়ের স্থান এবং সময় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হবে।

গেল বছরের ১২ ডিসেম্বর, বার্লিনে তার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি এবং জ্ঞান হারান। তাকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়।

দাউদ হায়দার ১৯৭৩ সালে ‘কালো সূর্য্যের কালো জ্যোত্স্নায় কালো বন্যায়’ কবিতার জন্য গ্রেপ্তার হন। ১৯৭৪ সালের ২০ মে সন্ধ্যায় তাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে কলকাতাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইটে তোলা হয়। সেই ফ্লাইটে আর কোনও যাত্রী ছিল না এবং পরবর্তীতে ভারত সরকারও তাকে বহিষ্কার করে। ১৯৮৭ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাসের সহায়তায় তিনি জার্মানিতে আশ্রয় নেন।

দাউদ হায়দার চিরকাল একাকিত্ব ও বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং দীর্ঘদিন আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৩ বছর। তার জন্ম ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায়। তিনি একজন আধুনিক বাংলা কবি হিসেবে পরিচিত এবং ‘জন্মই আমার আজন্ম পাপ’ কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 

সত্তর দশকের শুরুর দিকে দাউদ হায়দার দৈনিক ‘সংবাদ’ পত্রিকার সাহিত্য পাতার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন সোসাইটি ফর পোয়েট্রি তার একটি কবিতাকে ‘দ্য বেস্ট পোয়েম অব এশিয়া’ সম্মানে ভূষিত করে। সর্বশেষ তিনি ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ নিয়মিত কলাম লিখতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত