‘২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ অডিওটি হাসিনার

আপডেট : ০১ মে ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

‘২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার। বক্তব্যের ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা। এর ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার প্রসিকিউশনের পক্ষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ আবেদনটি করা হয়। যাতে শেখ হাসিনা ও তার সঙ্গে কথোপকথনে থাকা শাকিল নামে এক ব্যক্তিকে আগামী ১৫ মের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত।

গত ৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য (হেইট স্পিচ) গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে তার যেসব বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও বিবৃতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ হয়েছে তা তাৎক্ষণিক অপসারণের নির্দেশ দেয় আদালত। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব আদেশ আসে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুজনের কনভারসেশনটি সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে সিআইডি মতামত দেয় যে, এই কথোপকথনটি শেখ হাসিনা ও শাকিল আহমেদের মধ্যেই হয়েছে। এটা বানানো কোনো কনভারসেশন নয় এবং এটা এআই জেনারেটেড নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আদালতের কাছে দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আসামি শেখ হাসিনা ও শাকিল আহমেদ, তাদের কথোপকথনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে চলমান যে বিচার প্রক্রিয়া তার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং এখানে যে মামলাগুলো রয়েছে সেগুলোকে প্রেজুডিস করার চেষ্টা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মনে করেছেন এটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাক্ষীরা এ মামলায় সাক্ষ্য প্রদানে ভয় পাবেন এবং বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত