যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সমান সুযোগের’ ভিত্তিতে ঐতিহাসিক খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই রুশ ড্রোন হামলায় কেঁপে ওঠে ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহর। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে চালানো ওই হামলায় সোভিয়েত যুগের একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। এতে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই এক বক্তব্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে ‘ঋণমুক্ত এবং সমতাভিত্তিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এতে একটি যৌথ পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা হবে, যা ইউক্রেনে খনিজ খাতে বিনিয়োগ করবে এবং কিয়েভ সেখান থেকে সরাসরি আয় করবে। যদিও এতে ইউক্রেনের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনা শেষে গত বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ইউক্রেনের ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো এই খনিজ সম্পদ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। স্কট বেসেন্ট বলেন, এই চুক্তি প্রমাণ করে দুই দেশই ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চুক্তির অধীনে দেশ দুটি যৌথভাবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উন্নয়ন এবং এ খাতে বিনিয়োগ করবে। জেলেনস্কি বলেন, আলোচনার সময় চুক্তির ধারা মোটামুটি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে একটি সমতাভিত্তিক চুক্তি হয়েছে। চুক্তিটি এখনো ইউক্রেনের সংসদে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে কিয়েভ আশা করছে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার পথও সুগম করবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধের কারণে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। চুক্তির বিষয়ে জেলেনস্কি আরও বলেন, চুক্তিতে শর্ত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যাতে তা উভয়পক্ষের জন্য উপকারী হয়। এটি ঋণ নয়, বরং বিনিয়োগের সুযোগ।
