প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার ব্যাপারে হাদিস শরিফে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই তিনটি রোজা ‘আইয়ামে বিজ’ তথা প্রতি চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রাখা সর্বোত্তম। হজরত কুদামা ইবনে মিলহান কায়সি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের আইয়ামে বিজ অর্থাৎ চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন।’ (আবু দাউদ ২৪৪৯) অন্য হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু (নবীজি) আমাকে তিনটি অসিয়ত করেছেন, যা আমৃত্যু আমি পরিত্যাগ করব না। এক. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা। দুই. চাশতের নামাজ আদায় করা। তিন. ঘুমানোর পূর্বে বিতরের নামাজ আদায় করা।’ (সহিহ বুখারি ১১৭৮)
ফজিলত ও হেকমত : এক. এটি হৃদয়ের কলুষতা দূর করে। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মাসের তিন দিন রোজা রাখা অন্তরের ক্রোধ (ঘৃণা ও হিংসা) দূর করে।’ (সুনানে নাসায়ি ২৩৮৫) দুই. মাসের তিন দিন রোজা রাখা পুরো মাসের রোজার সমান হয়ে যায়, কেননা একটি নেকির প্রতিদান দশগুণ। এভাবে প্রতি মাসে রাখলে সারা বছরের সমতুল্য হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা সারা বছর রোজা ও ইবাদত পালনের সমতুল্য।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান ৩৬৫২) তিন. চিকিৎসকরা বলেছেন, মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে দেহে আর্দ্রতা (ভেজাভাব) সৃষ্টি হয়, ফলে দেহে অবাঞ্ছিত বর্জ্য জমে। রোজা এসব বর্জ্য বা তার কিছু অংশ দূর করে দেয়।
রমজানের রোজা পালনের পর তাই সারা বছর একদম বসে না থেকে এভাবে রোজা পালন করা উচিত। কারণ যেকোনো আমলের ধারাবাহিকতা আল্লাহতায়ালার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয়। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যে আমল ধারাবাহিকভাবে করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।’ (সহিহ মুসলিম ৭৮২)