শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অনন্য প্রতিষ্ঠান ইসিটি

আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

বাংলাদেশের খ্রিস্টান সমাজের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান ইক্যুমেনিক্যাল খ্রিস্টান ট্রাস্ট (ইসিটি)। এখানে প্রতি মাসে দরিদ্র ও প্রান্তিক খ্রিস্টান শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য কাউন্সেলিং, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপ ওয়ার্কিং, ধর্মীয় সচেতনতামূলক সেমিনার, কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা ও ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে ইসিটি।

১৯৮৬ সালে ট্রাস্ট আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় সহনশীলতা, সমাজসেবা এবং শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সহাবস্থান তৈরি করাই ছিল এ ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য, যা সময়ের সঙ্গে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।

ঢাকার মিরপুর-১০-এ অবস্থিত এই ইসিটি আন্তঃধর্মীয় সংলাপেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। খ্রিস্টানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করে এ প্রতিষ্ঠান। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যকে লালন করে এমন নাটক, সংগীতানুষ্ঠান ও সাহিত্যসভাও তাদের নিয়মিত কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইসিটি শুরু করেছে এক যুগান্তকারী গবেষণা প্রকল্প ‘জাতীয় জীবনে খ্রিস্টানম-লীর অবদান’। পাঁচ বছরমেয়াদি এ গবেষণার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা, যা সংগঠনের নিজস্ব তহবিল এবং দেশের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। এ গবেষণা শুধু খ্রিস্টানদের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরবে না বরং জাতীয় পরিচয়ে খ্রিস্টানদের অবিচ্ছেদ্য অংশীদারত্বের দিকগুলোও তুলে ধরবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক উন্নয়নেও সক্রিয়। স্কলারশিপ ফান্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০ জন দরিদ্র ও প্রান্তিক খ্রিস্টান শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের জন্য কাউন্সেলিং সেশন, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপ ওয়ার্কিং, ধর্মীয় সচেতনতামূলক সেমিনার, কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা কর্মসূচি ও ত্রাণ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি করে ইসিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত