হিলিতে শুকনো মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ১০০ টাকা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ১২:২৪ এএম

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে শুকনো মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে শুকনো মরিচের দাম কমায় খুশি নিম্নআয়ের মানুষ। দাম যেন এমনই থাকে সেই দাবি জানিয়েছেন তারা। বাজারে শুকনো মরিচের সরবরাহের ধারা এমন থাকলে সামনের দিনে দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই শুকনো মরিচের সরবরাহ বেশ ভালো লক্ষ করা গেছে। সেই সঙ্গে শুকনো মরিচের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। যে শুকনো মরিচ এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি প্রকারভেদে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, তার দাম হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শুকনো মরিচের দাম কমায় মানুষজন চাহিদা মোতাবেক কিনছেন। এতে করে বিক্রি বেড়ে গেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। তবে কারেন্ট মরিচ আগের মতোই ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারের শুকনো মরিচ ক্রেতা আনছার আলী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই শুকনো মরিচ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। বাড়তি দামের কারণে সংসার চালাতে যেমন হিমশিম খেতে হচ্ছিল, তেমনি পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছিল। তবে এখন সেই অবস্থা থেকে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে শুকনো মরিচের দাম কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। এখন মাত্র ১৬০ টাকায় এক কেজি শুকনো মরিচ কিনতে পারছি। এতে আমাদের মতো মানুষদের টাকা যেমন কম লাগছে তেমনি পরিবারের চাহিদামতো শুকনো মরিচ কিনতে পারছি।

হিলি বাজারের শুকনো মরিচ বিক্রেতা আবুল হাসনাত জানান, এতদিন বাজারে শুধু বগুড়ার শুকনো মরিচের সরবরাহ ছিল। এতে করে চাহিদার তুলনায় শুকনো মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু ইতিমধ্যেই উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুকনো মরিচের মোকাম পঞ্চগড়ের বিন্দু জাতের শুকনো মরিচ বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম কম থাকায় অনেক কৃষক তা শুকিয়ে শুকনো মরিচ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছেন। যে কারণে বাজারে আগের তুলনায় শুকনো মরিচের সরবরাহ অনেকটা বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। এতে করে মোকামে আমরাও যেমন কম দামে শুকনো মরিচ কিনতে পারছি, তেমনি কম দামে বিক্রি করতে পারছি। বর্তমানে আমরা শুকনো মরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি, যা আগে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এ ছাড়া শুকনো মরিচের দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা এখন চাহিদামতো শুকনো মরিচ কিনছেন। আগে বাড়তি দামের কারণে কম কিনলেও এখন দাম কমায় বাড়তি পরিমাণে ক্রয় করায় শুকনো মরিচের বিক্রি আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে শুকনো মরিচের সররবাহের যে ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে, এমন ধারা অব্যাহত থাকলে দাম বাড়বে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত