হিলি

বেড়েছে ডিমের দাম, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম

সরবরাহ কমের অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে পাতা প্রতি (৩০ পিস) ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পুষ্টির চাহিদা মেটানোর একমাত্র উপকরণ ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সরবরাহ না বাড়া পর্যন্ত ডিমের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি ডিমের দোকানেই ভালো সরবরাহ থাকার পরেও বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি পাতা ডিম যেখানে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে সেই দাম বেড়ে ৩১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে ৩২০ টাকাও নেওয়া হচ্ছে।

হিলি বাজারে ডিম কিনতে আসা কুরবান আলী বলেন, গরীব মানুষ যে একটু পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিম খাবে সেই অবস্থা আর যেন থাকছে না। রাত পোহালেই বাজারে ডিমের দাম বাড়ছে যে ডিম কয়েকদিন আগেও বাজার থেকে কিনলাম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা হালি। এখন সেই ডিম কয়েকদিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে ৪৪ টাকা হালি হয়ে গেছে। বাড়তি টাকা লাগার কারণে বাধ্য হয়ে আগে দুই হালি ডিম কিনতাম, এখন সেখানে এক হালি ডিম কিনছি। কিন্তু এভাবে যদি ডিমের দাম বাড়ে তাহলে তো আমরা খেতে পারবো না।

ডিম কিনতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে এমন কি হয়ে গেল, যে ডিমের দাম পাতা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। বাজারে সব দোকানেই তো ডিম রয়েছে তারপরেও কেন ডিমের দাম বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে ডিম পাতা কিনলাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা সেই ডিম এখন দাম বেড়ে ৩১০ টাকা হয়ে গেছে। কেউ কেউ আরও ১০ টাকা বাড়িয়ে ৩২০ টাকা দাম চাইছে। এভাবে ডিমের দাম বাড়লে তো আমাদের মত মানুষদের জন্য সমস্যা।

হিলি বাজারের ডিম বিক্রেতা সুলতান মাহমুদ বলেন, সরবরাহ ভালো থাকায় বেশ কিছু দিন ধরেই ডিমের দাম নিম্নমুখী ছিল। আমরা ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা পাতা হিসেবে ডিম বিক্রি করেছি। কিন্তু গত একসপ্তাহ ধরেই ডিমের দামটা ঊর্ধ্বমুখী। এর কারণ হচ্ছে কয়েকদিন ধরে তীব্র গরম বয়ে যাচ্ছে যার কারণে হিটস্ট্রোকসহ নানা কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। এতে করে ডিমের উৎপাদন আগের তুলনায় খানিকটা কমে গেছে। যার কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমের কারণেই দাম ঊর্ধ্বমুখী। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে রাত পোহালেই ডিমের দাম বাড়ছে।

এ ব্যবসায়ী বলেন, সেইসঙ্গে ডিমের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে যার প্রভাবে ডিমের দাম বাড়ছে। মোকামগুলো থেকে আমাদের চাহিদা মাফিক ডিম দিচ্ছে না। আমাদেরকে আগে যেখানে প্রতিদিন ১০০ পাতা ডিম দিত এখন সেখানে ৬০ থেকে ৭০ পাতা করে ডিম দিচ্ছে। বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় আমাদেরকেও সেই মোতাবেক বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন যদি সামনের দিনে ডিমের সরবরাহ বাড়ে সেক্ষেত্রে দাম কমতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত