সীমিত সম্পদে ফ্যান্টাসি প্রকল্পের খেসারত আর নয়

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৭:২২ এএম

পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ‘ফ্যান্টাসি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের পাশাপাশি সীমিত সম্পদের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

গতকাল রবিবার নিজের ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্টে এমন মন্তব্য করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।

রাশিয়ার আর্ধিক ও কারিগরি সহায়তায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে কেন্দ্রটি থেকে। যার নির্মাণকাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম।

প্রতিটি ইউনিটে স্থাপিত হয়েছে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর রিয়্যাক্টর। দুই দফা সময়সীমা পিছিয়ে চলতি বছর প্রথম ইউনিট এবং আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শনিবার পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মাপাড়ের এই মেগা প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন ফাওজুল কবির। পরে তিনি কেন্দ্রটি সম্পর্কে বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তার এক ফেসবুক পোস্টে।

প্রায় একই ধরনের একটি ভারতীয় প্রকল্পের উদাহরণ টেনে জ¦ালানি উপদেষ্টা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘুরে এলাম। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ১৩.৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ৬০০০ মেগাওয়াট, যা নির্মাণে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এ দুটি কেন্দ্রই রাশিয়া নির্মাণ করছে। এতে রিয়্যাক্টর সরবরাহ করছে রাশিয়ার রোসাটম।’

এ সময় রূপপুর প্রকল্পে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা চলমান ইস্যুকেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রশ্ন রাখেন, দুর্নীতির বাইরেও এত বড় মেগা প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে। লেখেন, ঈশ্বরদী থেকে রূপপুর পর্যন্ত একটি রেললাইন নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। এই রেললাইনের শেষপ্রান্তে রূপপুর স্টেশনে বানানো হয়েছে মাত্র সাত কক্ষের একটি গেস্ট হাউজ। অথচ রেললাইনটি আজও ব্যবহার হয়নি, ভবিষ্যতেও ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

পোস্টের শেষে উপদেষ্টা দেশের অর্থনীতির সাপেক্ষ খরচ ও কার্যকারিতা বিবেচনায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার বার্তা দেন। বলেন, দুর্নীতি নজরে আনার পাশাপাশি, আমাদের আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে প্রকল্পের কাঠামো, খরচ ও কার্যকারিতা যাচাইয়ে। সীমিত সম্পদ দিয়ে ফ্যান্টাসি প্রকল্প বানানোর খেসারত যেন দেশের মানুষকে না দিতে হয়।

২০১৩ সালের ২ অক্টোবর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করা হয়। মূল কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩৩তম সদস্য হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

রূপপুরে বর্তমান কেন্দ্রের পাশেই একই সক্ষমতার আরও দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে। এটি হলে ওই দুই ইউনিটের নির্মাণ ব্যয় আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত