মহিলা পরিষদ

এপ্রিলে ধর্ষণের শিকার ১১১ নারী ও শিশুকন্যা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির তথ্যমতে, এপ্রিল জুড়ে ৩৩২ নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১১ জন এবং হত্যা করা হয়েছে ৭০ জনকে।

গতকাল রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এপ্রিল মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনসংক্রান্ত তথ্য সংকলন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১১১ ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ২৪ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পাঁচজন নারী বা কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে দুজন। ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ২৯ জনের ওপর এবং ১২ জন হয়েছে যৌন নিপীড়নের শিকার।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে ৭০ নারী ও মেয়েশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, তিনজনকে হত্যা করা হয় যৌতুকের কারণে এবং দুজন গৃহকর্মী ছিলেন। বাকি ৬০ জনকে হত্যা করা হয় নানা ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণে। এ ছাড়া ২৪ জনের রহস্যজনক মৃত্যু এবং ২৪ জন আত্মহত্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুজন আত্মহত্যার প্ররোচনার শিকার।

এপ্রিল মাসে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১২ জন নারী, যাদের মধ্যে তিনজনকে হত্যা করা হয়। পারিবারিক সহিংসতার কারণে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন তিনজন। অপহরণ করা হয়েছে ৯ নারী ও মেয়েশিশুকে। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে চারজনকে এবং সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছে একজন। মহিলা পরিষদ মনে করে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সংগঠনটি আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত