গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনায় ১০০ জনকে আসামি করে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাসন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও অনেককে আসামি করা হয়। বাসন থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন খান জানান, এনসিপি প্রতিনিধি আল আমিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের বাসন থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন রাব্বিকে।
ওসি জানান, মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, রুমানা আলী টুসি, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জামিল হাসান দুর্জয়, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি ইকবাল হোসেন সবুজ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, শ্রীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রীনা পারভীন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সরকার, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুলতান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রবিন প্রমুখ।
গতকাল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জাহিদ হাসান জানান, হাসনাতের ওপর হামলাকারী অপরাধীদের ধরতে রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৫৪ জনকে আটক করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার কাছে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার উত্তরপাশে উল্কা সিনেমা হলের কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পেছন থেকে মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা এসে হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়ি গতিরোধ করে হামলা চালায়। হামলায় তার গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপরই বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করা হয়।
