জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৬ মে ২০২৫, ০৮:২৬ পিএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় সুজন সাহা (৫০) নামের এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (০৬ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

সুজন সাহা ওই এলাকার মৃত হরিদাস সাহার ছেলে। তিনি আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তার এক ছেলে এক মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার সুদর্শন সাহা, সনৎ সাহা ও ব্যবসায়ী শান্তিরঞ্জন সাহার সঙ্গে সুজন সাহার দীর্ঘদিন যাবত জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সনৎ সাহার স্ত্রী মিমি সাহার সঙ্গে সুজন সাহার স্ত্রীর মিঠু সাহার ঝগড়া বাঁধে। এসময় চাচাতো ভাই সুদর্শন, সনৎ সাহা ও ব্যবসায়ী শান্তিরঞ্জন সাহার সঙ্গে  সুজন সাহার বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শান্তিরঞ্জনের দোকানের কর্মচারী লোকমান হোসেন সুজনকে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এসময় আবার প্রতিপক্ষরা সুজনের শরীরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে সুজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকাতে নেয়ার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে জাজিরা এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য সুজনের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।  

সুজনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে সুজন সাহার পরিবার শান্তিরঞ্জন সাহার বড় ভাই মানিক সাহার স্ত্রী শংকরী সাহাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। 

সুজন সাহার স্ত্রী মিঠু সাহা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামীকে ওরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। 

তবে, ঘটনার পর সুদর্শন সাহা, সনৎ সাহা ও শান্তিরঞ্জন সাহা পালিয়েছেন। তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। 

আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ সাহা বলেন, সুজন সাহার সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। আজ ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথেই তিনি মারা যান। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। 

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা সুজন সাহার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করবো। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত