চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনের কুনমিং শহরে সরাসরি কার্গো বিমান চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। এখন আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় আছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কর্তৃপক্ষের আশা, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উক্ত এয়ারলাইনসের চিঠি আসবে তাদের হাতে। তবে এ বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো বিমান পরিষেবা চালু করার আগে কিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, পুরোদমে কার্গো পরিষেবা চালু করতে তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, চীনের পাশাপাশি আগামী কিছুদিনের মধ্যে ইউরোপের একটি দেশও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো বিমান পরিষেবা চালু করার কথা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম খলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কার্গো বিমান চালু করার বিষয়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস থেকে খুব শিগগির চিঠি পাচ্ছি। পাশাপাশি ইউরোপের একটি দেশও চট্টগ্রাম থেকে কার্গো বিমান পরিচালনা করবে।’
বেবিচক সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে চীনের কুনমিংয়ে কার্গো পরিষেবা চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে দুই দেশের মধ্যে বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। সূত্রটির দাবি, এই বিমান পরিষেবা চালু হলে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের নতুন দ্বার খুলবে। সেই সঙ্গে খুলবে বাণিজ্যের নতুন দুয়ার।
বিমানবন্দর সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো থেকে রপ্তানি কার্গো পরিচালনা বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শাহ আমানত বিমানবন্দর পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, ‘ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় বাংলাদেশের ভাগ্য আরও সুপ্রসন্ন হয়েছে। শাহ আমানতে আন্তর্জাতিক কার্গো বিমান পরিষেবা পুরোদমে চালু করতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।’
বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও শাহ আমানত বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রপ্তানি কার্গো বৃদ্ধি পেলে বেবিচককে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। কার্গো রপ্তানি বাড়ানোর জন্য রপ্তানি কার্গো এক্সেপ্টেন্স এরিয়ায় ওয়েইং মেশিন স্থাপন, কোল্ডস্টোরেজ মেরামত, স্ক্যানিং মেশিন এরিয়ায় পুরকৌশল কাজ, স্বতন্ত্র ও নিবেদিত কাস্টমস সেট-আপ নিশ্চিত করা, সোনালী ব্যাংক অন্য জায়গায় স্থানান্তর, আরএ-৩ জোন স্থাপন, কার্গো ওয়্যার হাউজ সম্প্রসারণ ও কার্গো অপারেশনের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী জনবল।
জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, প্রস্তুতির মধ্যে বাকি আছে কার্গো সিকিউরিটির জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম।’ আরেক কর্মকর্তা জানান, আমদানি কার্গো এরিয়ায় থাকা ৩টি ওয়েইং মেশিনের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৫ টন। কিন্তু কার্গো অপারেশন শুরু হওয়ার পর রপ্তানি এরিয়ায় কোনো ওয়েইং মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এটা নিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের অডিট টিম আপত্তি জানিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এখানে ওয়েইং মেশিন স্থাপন প্রয়োজন। রপ্তানি এরিয়ায় থাকা দুটি কোল্ডস্টোরেজ বিকল হয়ে আছে। রপ্তানি এরিয়ায় থাকা দুটি স্ক্যানিং মেশিনের প্রবেশপথ ১টি হওয়ায় ব্যবহারে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া কার্গো ভিলেজে স্বতন্ত্র ও নিবেদিত কাস্টমস সেট-আপ নিশ্চিতকরণও জরুরি।
বেবিচকের এক কর্মকর্তার দাবি, চট্টগ্রাম থেকে চীন সরাসরি বিমান চালালে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে জোয়ার আসবে। কিছুদিন আগে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সে দেশের ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে চীনের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান ইউনূস। তবে কার্গো অপারেশনের উন্নয়নে রপ্তানি কার্গো রিসিভ এরিয়া সম্প্রসারণ, নতুন শেড নির্মাণ, অচল কোল্ডস্টোরেজ মেরামত, নতুন দুটি ডুয়েল ভিউ স্ক্যানিং মেশিন এবং ওয়াক থ্রো মেটাল ডিটেক্টর কেনার উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম জানান, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে কার্গো রপ্তানি সক্ষমতা ২৭০ টন, এর মধ্যে আমদানি ২৫০ টন আর রপ্তানি ২০ টন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এক সময় থাই এয়ার, সিল্ক এয়ার, কুয়েত এয়ার, ইতিহাদ ও এমিরেটসের কার্গো ফ্লাইট চলাচল করত। ২০২২ সালের আগে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি পণ্য আসত। দুবাই-চট্টগ্রাম-ব্যাংকক এবং দুবাই-চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে এমিরেটস পণ্য পরিবহন করত। তবে ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবরের পর এমিরেটসের কোনো ফ্লাইট আর আসেনি। ২০২০ সাল থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের কার্গো ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে গেছে।
