চার নেতা, শহীদদের স্বীকৃতি চায় ভাসানী জনশক্তি পার্টি

আপডেট : ০৯ মে ২০২৫, ০৪:১৫ এএম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, এ দেশের জনগণকে বা তরুণ প্রজন্মকে যেন আর কখনো তার অধিকার আদায়ের জন্য প্রাণ দিতে না হয়। আমাদের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশকে একটি আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে পায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ভাসানী জনশক্তি পার্টির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। অন্যদিকে ভাসানী জনশক্তি পার্টির পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। তার সঙ্গে ছিলেন মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আব্দুল কাদের, পারভীন নাসের খান ভাসানী ও আমিনুল ইসলাম সেলিমসহ ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এ চার নেতার সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। একই সঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদেরও সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশে বিনির্মাণ করতে চায় ভাসানী জনশক্তি পার্টি। জাতীয় বীরদের সম্মান প্রদর্শনসহ বেশ কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।’

ভাসানী জনশক্তি পার্টি পক্ষ থেকে প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর, নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ ৫ বছর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৩ মাস করার সুপারিশ করা হয়।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘১৬ বছর ধরে যেসব রাজনৈতিক শক্তি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, তাদের লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেখানে থাকবে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যেন প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বে থেকেও ক্ষমতার ঊর্ধ্বে না উঠে যান বা কেন্দ্রীয়ভাবে সব ক্ষমতা নিজের মধ্যে কুক্ষিগত না করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, তেমনই ঐক্য নিয়ে পরিবর্তনের ধারা সূচনা করতে হবে।’

সবার ঐকমত্যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা হবে জানিয়ে আলোচনার শুরুতে আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি একটি জাতীয় সনদ প্রণয়ন করতে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা নির্ধারণ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত