তরুণ ভোটারদের জন্য বিএনপির মাসব্যাপী কর্মসূচি

আপডেট : ০৯ মে ২০২৫, ০৪:১৮ এএম

তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপির তিন অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি তরুণ হওয়ায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তরুণদের। বিষয়টি মাথায় রেখেই মে মাসজুড়ে চারটি বৃহত্তর বিভাগে সেমিনার ও সমাবেশের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংগঠন তিনটি।

গত ২৯ এপ্রিল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না কর্মসূচি ঘোষণা করে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগকে চারটি ভাগে ভাগ করে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো তরুণদের জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা।

কর্মসূচির সময়সূচির মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম বিভাগের আজ ৯ মে ‘কর্মসংস্থান ও বহুমাত্রিক শিল্পায়ন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার, ১০মে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’। আজকের সেমিনার হবে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দুপুর ৩ টায়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কাল ১০ মে শনিবার চট্টগ্রাম পলো গ্রাউন্ড ময়দান সমাবেশ হবে দুপুর ১২ টার দিকে। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, এসব সেমিনার ও সমাবেশে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, তরুণদের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাসহ বিভিন্ন বার্তা দেবে বিএনপি’র তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে বিভাগীয় শহর, জেলা ও থানা পর্যায়ে যৌথসভা ও প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অনলাইন ক্যাম্পিংও হয়েছে। সেমিনারগুলোতে কর্মসংস্থান, বহুমাত্রিক শিল্পায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক অধিকার, কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক সমস্যা নিয়ে তারুণদের বক্তব্য ও মতামত শুনবেন নেতারা। মতামতগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে তার ভিত্তিতেই আগামীতে পথ চলবে বিএনপি। এর মধ্যদিয়ে তরুণদের জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করবে তারা। মূলত তরুণদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফরম গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তিন সংগঠনের দু’জন শীর্ষ নেতা জানান, দেশের মেধারী তরুণরা কর্মসংস্থান না পেয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। তারা আর দেশে ফিরছে না। যা দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি তরুণদের এই মেধা, জ্ঞান এবং তাদের স্বপ্নকে ধারণ করতে চায়। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে তরুণদের দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। 

জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, ‘সেমিনার এবং সমাবেশে দেশের সব তরুণদের আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা তাদের কথা শুনবো। সেমিনার এবং সমাবেশ হবে সব তরুণদের।’

২ মাসে ১ কোটির বেশি নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে চায় বিএনপি : ১ কোটির অধিক নতুন সদস্য সংগ্রহে দুই মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক সদস্য নবায়ন সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের পর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি এই কমিটির আহ্বায়কও।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, ‘এবার শুধুমাত্র নবায়ন নয়, আমাদের কাজ শুরু হবে আগামী ১৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। দুই মাস এটি চলবে। সেটা হচ্ছে নবায়ন এবং দলের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য দ্রুত গতিতে দেশব্যাপী, আমরা টার্গেট করেছি প্রায় ১ কোটির অধিক এবার প্রাথমিক সদস্য করব ইনশাআল্লাহ।’

রিজভী বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দুঃসময়ে স্বাভাবিকভাবে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যায়নি। আপনারা দেখেছেন, প্রায় দিনের পর দিন তারা এই দলীয় কার্যালয় আক্রমন করেছে। আমাদের দলের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কম্পিউটার, টাইপ টাইটার, ফ্যাক্স মেশিন ইত্যাদি তারা (সরকারের পুলিশ বাহিনী) ভাঙচুর করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, পলিটিক্যাল পার্টিগুলো একটি সুষ্ঠু নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। সেই নিয়ম শৃঙ্খলাকে একেবারে পর্যদুস্ত করার জন্য এবং একচ্ছত্র একদলীয় দুঃশাসনকে কায়েম রাখার জন্য তারা বিরোধী দলগুলোর ওপর মুহুর্মুহু আক্রমণ করেছে। এই দলীয় কার্যালয় কতবার যে ভাঙচুর করেছে, তচনচ করেছে, আমাদের কম্পিউটার, দলিল, ফাইল সব রাস্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে, নিয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতিতে আবার নতুন করে পুনর্গঠন করা আমাদের জন্য কঠিন ব্যাপার। আমাদের দল করতে কত লোক আগ্রহী সেটাও আমাদের সংগ্রহ অভিযানের মধ্য দিয়ে জানতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘সমাজের সর্বক্ষেত্রের মানুষ যারা বিএনপিকে পছন্দ করেন, বিএনপি মনা, জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনা লালন করে তারা এই দলের সদস্য হবেন। এই আমরা প্রত্যাশা করি। কারণ এখন শেখ হাসিনার সেই ভয়ংকর দুঃশাসনের ছোবল নেই। সেক্ষেত্রে অনেকেই এগিয়ে আসবেন। এই এগিয়ে আসার মধ্য দিয়ে আমাদের এই কর্মসূচি শুরু হবে।’

অন্যদল থেকে কিংবা আওয়ামী লীগে থেকে আসতে পারবে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘না। ধরুন, কেউ দীর্ঘদিন রাজনীতি করেননি অথবা আওয়ামী লীগের আমলেও যারা হয়তো এক সময়ে আওয়ামী লীগ করতেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, আওয়ামী লীগের বর্বরোচিত কর্মকা-, লুটপাট, টাকা পাচার, এটাকে যারা পছন্দ করেনি, এই ধরনের মানুষ আওয়ামী লীগ থেকে সরে গেছেন, তারা আসতে পারবে না কেন? আমাদের চিন্তা হলো সমাজের ফ্রেস মানুষ, একজন ভদ্রলোক হয়তো রিটায়ার্ড করেছেন, তিনি একজন শিক্ষক হতে পারেন, গভার্মেন্ট অফিসার, ব্যাংকার, এনজিও কর্মী-কর্মকর্তা, কৃষক, শ্রমিক হতে পারেন। এক্ষেত্রে কোনো ক্রাইটেরিয়া নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, এমরান সালেহ প্রিন্স, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত