বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে চীন

আপডেট : ০৯ মে ২০২৫, ০৪:২৪ এএম

ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এমন সংকটময় সময়ে চীন সবসময়ই সত্যের পক্ষে থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে তার দেশ।

বাংলাদেশ ও চীন সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে ইয়াও ওয়েন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে উভয় দেশকে কাজ করতে হবে। কমাতে হবে উত্তেজনাও। অনুষ্ঠানে চলতি মাসের শেষে শত ব্যবসায়ী বিনিয়োগকারীসহ দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন বলেও জানান চীনের রাষ্ট্রদূত। তার দাবি, এত বড় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল আগে বাংলাদেশে আসেনি। এর মাধ্যমে বাণিজ্য আরও প্রসারিত হবে।

স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সংস্কারে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘স্থিতিশীলতা ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়। সংস্কার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা পশ্চিমাদের মতো খোলামেলা কথা বলতে চাই না।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করে চীন।’

যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্কনীতির কঠোর সমালোচনা করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। তবে এ সংকট আপস নয়, বরং ন্যায়বিচার ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থানের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন একতরফাভাবে যেসব শুল্ক ব্যবস্থা নিয়েছে, তা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।’

চীন নিজস্ব স্বার্থরক্ষায় কীভাবে এগোচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন দৃঢ়ভাবে তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থরক্ষা করছে। মার্কিন পক্ষ সংলাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা আমরা বৈশ্বিক প্রত্যাশা ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে পর্যালোচনা করছি।’

চীন-মার্কিন সংলাপের সম্ভাব্য অগ্রগতি সম্পর্কে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘ভাইস প্রিমিয়ার হি লাইফেং ৯ থেকে ১২ মে সুইজারল্যান্ড সফরকালে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন।’

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারের রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য শর্তসাপেক্ষে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি মানবিক করিডর নিয়ে যে আলোচনা চলছে, এর সঙ্গে বেইজিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, ‘করিডর ইস্যু নিয়ে আমি বলতে চাই, চীন এটার সঙ্গে যুক্ত নয়। যতদূর শুনেছি, এটি জাতিসংঘের একটি উদ্যোগ। রাখাইনে চলমান পরিস্থিতির কারণে তারা এ প্যাসেজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে চায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার বা অন্যরা এটার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু চীন এ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত নয়। এটা একান্তই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, চীন যেকোনো দেশে সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করবে।’

মিয়ানমারের রাখাইনকে আলাদা স্টেট করা নিয়ে চলা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তথাকথিত রাখাইনকে আলাদা স্টেট করার বিষয়ে রাজনৈতিক কোনো আলোচনা নিয়ে আমার ধারণা নেই। আরাকানে স্বাধীন রাজ্য চেয়ে জামায়াত একটা বিবৃতি দিয়েছে, এটা তাদের বিবৃতি।’

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু ৫০ বছরের নয়, এ দুই দেশের সম্পর্ক হাজার বছরের। চীন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগিতায় চীন বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখযোগ্য। সেটা হলো, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কখনো কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। আরেকটি হলো, চীন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রাখে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত