আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকারবঞ্চিত তরুণদের টার্গেটে রেখেই আজ শনিবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’। প্রত্যক্ষভাবে তিন সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে সমাবেশের আয়োজন হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিএনপিরই সমাবেশ। ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা।
বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের সমন্বয়ে আয়োজিত এ সমাবেশ কেন্দ্র করে এক সপ্তাহ ধরে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা অবস্থান করছেন চট্টগ্রামে। সরাসরি মনিটরিং করছেন তারা সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো। সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি দৃশ্যমান করতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় নিজেদের জনসমর্থন ও অবস্থান জানান দিতে বিভিন্ন আসনভিত্তিক নেতারাও সমাবেশ প্রস্তুতির বিষয়ে সক্রিয় হয়েছেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি সমাবেশে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, শনিবারের তারুণ্যের সমাবেশ কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচ লাখ লোকের সমাগম করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিভাগের প্রতিটি উপজেলা থেকে লোকজন আসবে সমাবেশে। বিশেষ করে তরুণদের সমাবেশে আনার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, আজকের তরুণরা বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন দেখেছে। এ সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলের রাজনীতি ছিল না বললেই চলে। যে কারণে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাভাবনা সম্পর্কে তরুণদের ধারণা নেই বললেই চলে। তাই আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তরুণদের কাছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে এ সমাবেশ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের তরুণরাই আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মতামত চিন্তাভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের নিয়ে সারা দেশে আমরা সেমিনার ও সমাবেশ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তরুণদের নিয়ে সেমিনার হয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরের প্রথিতযশা ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত থেকে তরুণদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সমাবেশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের তরুণ সমাজের মধ্যে নতুন জাগরণ ঘটবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে বিগত ১৬ বছরে তরুণদের বড় একটি অংশ রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদের সুস্থ রাজনীতির ধারায় সম্পৃক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
চাকরি ও শিল্পায়নে তরুণের সুযোগ বাড়বে : আমীর খসরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো
জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টেশ^রী রোডে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘কর্মসংস্থান ও বহুমুখী শিল্পায়ন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনার হয়। সাত শতাধিক তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ২০ সম্ভাবনাময় খাতে সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির ড. জামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন খান, ডা. জাহেদ উর রহমান, নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ, ইঞ্জিনিয়ার মুনতাসির মুনীর, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সাইয়েদ আব্দুল্লাহ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ডিরেক্টর শাফকাত রাব্বী, পাঠাওর সিইও ফাহিম আহমেদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসা হোক বা চাকরি হোক, এটাকে প্রোডাকটিভ করার জন্য প্রধান যে কাজ, সেটি হলো শিক্ষা। শিক্ষায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বে আমরা সবচেয়ে নিচের দিকে। এজন্য বিএনপির ৩১ দফায় আগামী দিনে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা। তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। সেজন্য স্কিল ডেভেলপ, রি-স্কিল ডেভেলপ ও আপ-স্কিলিংয়ে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। এ বিনিয়োগে বিএনপি কমিটেড।
তিনি বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ব্যাক টু ব্যাক এলসির কারণে আজ গার্মেন্টস সেক্টর দাঁড়িয়ে আছে। এটি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আগামীতে সম্ভাবনাময় আরও ২০টি সেক্টরে আমরা এমন সুযোগ দিতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি হাইলি রেগুলেটেড কান্ট্রি, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এর কারণে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট ডিসিশন নিতে যত ধরনের বাধা আছে, সমস্যা আছে, যেগুলো রিমুভ করতে হবে। শুরুতে এই বাধাগুলো ইরেগুলেশন ও লিবারাইজেশনের মাধ্যমে রিমুভ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ইনসেনটিভ হলো সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। অর্থাৎ ডেমোক্রেটাইজেশন অব দ্য ইকোনমি। আপনি শুধু পলিটিকসকে ডেমোক্রেটাইজেশন করবেন আর ইকোনমিকে করবেন না এটা হবে না। অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। যাতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সুযোগ থাকে এটা হলো সবচেয়ে বড় ইনসেনটিভ, দ্বিতীয় হলো জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিএনপি যে পদক্ষেপের কথা বলছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও নেই উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবে তাদের প্রত্যেকের জন্য বিডা থেকে একজন করে ক্যাপ্টেন নিয়োগ করব। দেশের তরুণ শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা এ ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করবে।
