মস্কোতে পুতিন-শি ২০টির বেশি চুক্তি সই

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

নিজেদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দুই পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন। গত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত হয় চুক্তিটি। উভয় পক্ষই এটিকে দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে। শি জিনপিং ও ভøাদিমির পুতিন একসঙ্গে ২০টিরও বেশি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক আইন, জৈব নিরাপত্তা, বিনিয়োগ সুরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, কোয়ারেন্টিন ইনসপেকশন (সঙ্গনিরোধ পরিদর্শন) এবং চলচ্চিত্র শিল্পে সহযোগিতা। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মস্কোয় যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করছে। পুতিন বলেন, আমরা একসঙ্গে আরও ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিজের বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক সমাজে স্থিতিশীল, ইতিবাচক ও অগ্রসরমাণ শক্তি এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, আমরা একতরফা সিদ্ধান্ত ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বিশেষ দায়িত্ব পালন করছি।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে বলে জানান পুতিন। যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়। তিনি জানান, বর্তমানে চীনা গাড়ির প্রধান আমদানিকারক হয়ে উঠেছে রাশিয়া এবং রাশিয়ায় চীনা শিল্প স্থাপনেও তারা আগ্রহী। তিনি বলেন, বেশ কিছু সাহসী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ‘উল্লেখযোগ্য মানগত উন্নয়ন’ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। বাণিজ্য সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে কাজ চলছে।

গত বছর দুই দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার জন্য চীন বড় বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, চীন রাশিয়াকে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতা করছে। যদিও বেইজিং তা অস্বীকার করেছে। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বুধবার রাশিয়া পৌঁছান শি জিনপিং। তিনি পুতিনের আমন্ত্রণে রাশিয়ার বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছেন। এই দিনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় ও মিত্রদের বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি হিসেবে উদ্যাপন করছে রাশিয়া। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে রুশ গণমাধ্যমগুলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে বিশ্ব ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই শি-পুতিনের এ ঐক্য প্রদর্শন। তাদের ভাষ্য- বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি দোলাচলে, তখন চীন ও রাশিয়া সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন, ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া শুল্ক ও বাণিজ্যযুদ্ধের মাঝেও চীন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

বিজয় দিবসের আয়োজনে বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশের নেতা মস্কোতে উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজে ১৩টি দেশের সেনাবাহিনী অংশ নেয়। এদিকে, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের এই বৈঠকটি হয়েছে এমন এক সময়, যখন ইউক্রেনে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। গত মাসে একতরফাভাবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানায়, এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয় স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১২টায়। তবে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, এই সময়ের মধ্যেই রাশিয়া উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সামি শহরের ওপর গাইডেড বোমা হামলা চালিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত