বিএনপি ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে নদীতে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১১ মে ২০২৫, ১২:৫৯ এএম

ঢাকার ধামরাইয়ে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গাজী খালী নদীর গতিপথ বন্ধ করে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। তারা দুজনে মিলে ইটভাটার ব্যবসাও করেন। নদীর গতিপথ বন্ধ করে ফসলি জমির মাটি কাটার এমন দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের ধাইরা এলাকায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধাইরা এলাকায় গাজী খালি নদীর গতিপথ বন্ধ করে নদীর মাঝ বরাবর মাটি ইটের আধলা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাস্তা তৈরি করায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমির সেচ কাজ। অন্যদিকে ফসলি জমিতে এসকেভেটর বসিয়ে ২০-২৫ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহলটি। এতে করে হুমকিতে পড়েছে ধাইরাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি। একটি জমির মাটি কাটার ফলে পাশের জমি ভেঙে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নান্নার ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মাটির ব্যবসা করে আসছেন। এ ব্যাপারে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তার সঙ্গে আরও যুক্ত রয়েছেন নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  নজরুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন, নান্নার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, যুবলীগ নেতা সাইফুল প্রমুখ। তারা দীর্ঘদিন ধরে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর অন্যপাশের ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন।

স্থানীয়রা বলেন, এভাবে কৃষিজমির মাটি লুটের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলোবালিতে বাড়িঘরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা প্রশাসনকে জানালে মাটি ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি করতে পারে।

নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে মাটি কেটে নিচ্ছে মোশাররফ, নজরুল ও আবু বকর সিদ্দিক। তাদের কেউ কিছুই বলতে সাহস করে না। সন্ধ্যা নামলেই মাটির ট্রাক চলাচল করতে শুরু করে। এভাবে চলতে থাকে ভোর পর্যন্ত।’

মাটি কাটার বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই মাটি কাটি। প্রশাসন যদি অনুমতি না দেন তাহলে কি এই ব্যবসা করা যায়?’ কিন্তু প্রশাসনের অনুমতির কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেন নি।

অন্যদিকে নান্নার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এসব কাজ করি না। কারা করে তাও জানি না।’

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, ‘আমরা অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেব। কৃষিজমি রক্ষার্থে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কর্মতৎপর রয়েছে। ইতিপূর্বে আমরা অসংখ্য ভেকু জব্দসহ অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত