অসংখ্য ভুল বানানে হার্ভার্ডকে ট্রাম্পের শিক্ষামন্ত্রীর চিঠি

আপডেট : ১১ মে ২০২৫, ০৮:৫১ এএম

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠানো একটি চিঠি দিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মার্কিন শিক্ষাসচিব লিন্ডা ম্যাকমাহন। কিন্তু বাস্তবে সেই চিঠিই তাঁকে পুরো আমেরিকার চোখে হাস্যরসের পাত্রে পরিণত করেছে। চিঠির ভাষাগত ত্রুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় উপহাস—ব্যাকরণ শেখার পরামর্শ দেন অনেকেই।

বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ড. অ্যালান গারবারের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (পূর্বের টুইটার) নিজেই শেয়ার করেছিলেন ম্যাকমাহন। তাতে তিনি জানিয়ে দেন, হার্ভার্ড কোনো ফেডারেল অনুদান আর পাবে না। তাঁর অভিযোগ ছিল—বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘হিংসাত্মক আচরণে’ উৎসাহ দিচ্ছে এবং একাডেমিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে সামাজিক মাধ্যমে চিঠির বক্তব্য নয়, বরং তার ভাষাগত গড়বড়ই বেশি আলোচনায় এসেছে। তিন পাতার ওই চিঠিতে একাধিক বানান ভুল, দুর্বোধ্য বাক্যগঠন এবং অকারণে বড় হাতের অক্ষরের ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। নেটিজেনরা তা লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে ভাইরাল করে দেন।

সমালোচকেরা একে বলছেন ‘ভাষার বিশৃঙ্খল দৃষ্টান্ত’ ও ‘এক নিরক্ষর ব্যক্তির জবাব’। কেউ লিখেছেন, “এটা কি কোনো হাইস্কুল শিক্ষার্থী লিখেছে?” আবার আরেকজন মন্তব্য করেন, “অবিশ্বাস্য! শিক্ষাসচিব নিজেই অশিক্ষিত!” একজন সম্পাদনা-জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ব্যঙ্গ করে বলেন, “এলোমেলো বড় হাতের অক্ষরের মানে কী? একবারও কি প্রুফ রিড করেননি?”

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ডসহ শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যান্টি-সেমিটিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে হোয়াইট হাউস। এ কারণে ফান্ড, করছাড় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াতেও হস্তক্ষেপ করছে সরকার।

এই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষাসচিব ম্যাকমাহন তার চিঠিতে হার্ভার্ডকে অভিযুক্ত করেন—বিদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানো এবং একাডেমিক মান বজায় না রাখার অভিযোগে। চিঠিতে তিনি বলেন, “হার্ভার্ড যেন আর কোনো ফেডারেল অনুদানের আবেদন না করে। কারণ, এমন কোনো অনুদান আর দেওয়া হবে না।”

হার্ভার্ড অবশ্য এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত মূলত তাদের দায়ের করা এক মামলার প্রতিশোধ। গত ২১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে, যাতে ফেডারেল অনুদান বাবদ ২.২ বিলিয়ন ডলার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, অনুদান বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীবনরক্ষাকারী গবেষণা ও উদ্ভাবন। এ সিদ্ধান্তকে তারা ‘অভূতপূর্ব ও অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছে।

নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে হার্ভার্ড বলেছে, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব, মতের বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করব এবং আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত