সংবিধানের চার মূলনীতি পরিবর্তনের বিপক্ষে সিপিবি

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সংবিধান পুনর্লিখনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম এ কথা জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে এই বৈঠক বেলা ২টার দিকে শেষ হয়। মোহাম্মদ শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সংবিধানের চার মূলনীতি রক্ষার পক্ষপাতী। একে উপেক্ষা করে কোনো প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করতে পারি না। সংবিধান পুনর্লিখনের বিপক্ষে আমরা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি।’ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা স্বৈরাচারবিরোধিতা ছিল উল্লেখ করে শাহ আলম বলেন, এখানে মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের সংবিধানকে বাতিল করতে হবে এমন কোনো বিষয় ছিল না। এগুলো পরে নিয়ে আসা হয়েছে; নানা বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সেই বিতর্কে না যেতে বলেছি। এটা করলে ঐকমত্য কমিশন বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে।’

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স) বলেন, বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তারা। তবে কেউ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, নারী আসন বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচন, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার বিষয়গুলোতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সিপিবি একমত পোষণ করেছে বলে রুহিন হোসেন জানান।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সংবিধানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর জাতিসত্তার স্বীকৃতি প্রদান, জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের নিশ্চয়তা প্রদানকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এর দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া এবং নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করার প্রস্তাব করেছে সিপিবি।

নির্বাচিত সংসদই সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এমন দলীয় অবস্থানের কথা জানিয়ে রুহিন হোসেন বলেন, ‘আগামীতে নির্বাচনটাই যেহেতু আমাদের সামনে মূল বিষয়, এমন কোনো বিতর্কিত বিষয় সামনে আনা উচিত হবে না, যেটা নির্বাচনকে বিলম্বিত করবে। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার করে আমরা নির্বাচনের জায়গায় যেতে চাই।’

মূল প্রস্তাব ও দাবিসমূহ : সংবিধান পুনর্লিখনের বিরোধিতা, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালুর আহ্বান, নারী আসন বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার প্রস্তাবে সমর্থন, সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করার প্রস্তাবের প্রতি একমত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি, জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি, সংবিধান, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের প্রস্তাব।

বৈঠকে সিপিবির ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন মিহির ঘোষ, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কাজী রুহুল আমিন, রাগিব আহসান মুন্না, সাজেদুল হক রুবেল, আবিদ হোসেন, অধ্যাপক ফজলুর রহমান।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন ও ইফতেখারুজ্জামান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার বৈঠক সঞ্চালনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত