অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন আজ বুধবার। একদিনের এই সফরে তিনি অংশ নেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে, পাশাপাশি পরিদর্শন করবেন চট্টগ্রাম বন্দর এবং কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে।
১৮৮৮ সালে ব্রিটিশ আমলে ‘চিটাগাং পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট’ গঠনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার।
‘অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার’ খ্যাত এই বন্দরকে আধুনিকায়ন ও এর সক্ষমতা ধরে রাখতে বে-টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বন্দরের আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও পরিচালনার গতানুগতিক পদ্ধতির কারণে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলেও মত ব্যবহারকারীদের।
বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “যেভাবে বন্দরকে আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এখনও পুরনো পদ্ধতিতে পণ্য লোড-আনলোড চলছে। সুবিধা বাড়িয়ে এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।”
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়বের বক্তব্য, “বন্দরকে আরও গতিশীল করতে হলে উন্নত যন্ত্রপাতি স্থাপন জরুরি। এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।”
নীতিনির্ধারকদের সরাসরি তদারকিতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামে গিয়ে সরেজমিনে এই বন্দর পরিদর্শন করবেন অধ্যাপক ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
তবে সম্ভাবনা সত্ত্বেও দক্ষ জনবল, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ঘাটতির কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এমন অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আনা সম্ভব। বিনিয়োগ এলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ মিলবে বিস্তারের।”
চট্টগ্রাম সফরে প্রধান উপদেষ্টা অবস্থান করবেন সার্কিট হাউসে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি উদ্বোধন করবেন ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিতব্য কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মুস্তফা নঈম জানান, “যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি নির্মাণ করা হবে। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি ঠেকাতে সরকারের কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।”
দিনের শেষ ভাগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। এ আয়োজনে অংশ নেবেন ২২ হাজার ৬০০ জন গ্র্যাজুয়েট।
উচ্চতাপ বর্জ্য আর দূষণে নাব্য সংকটে নদীতে কমছে ইলিশ