জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশকে আমরা কোনো পরাশক্তির কাছে বন্ধক রাখতে চাই না। মানবিক করিডর নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। আমরা কোনো ধোঁয়াশা দেখতে চাই না।
শুক্রবার (১৬ মে) বিকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘জুলাই ২৪ বিপ্লব’ স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই সমাবেশে’ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কুমিল্লার অনেক উপজেলায় বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল চলে আওয়ামী লীগের টাকায়। এখন সময় এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ অর্থ কাঠামো ধ্বংস করে দিতে হবে, বাজেয়াপ্ত করতে হবে দলটির সব সম্পদ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গঠনের কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল-২ এখনো গঠিত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত। তিনি বলেন, আমি আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্যারের কাছে জানতে চাই— এখনো কেন ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন হয়নি? আদালতে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের জামিনে আমাদের বিচারের ওপর আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
নির্বাচন ও সংস্কার প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, আমরা চাই খুনিদের বিচার নিশ্চিত করেই সংস্কারের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হোক। বিচার না হলে নির্বাচন অর্থহীন। নির্বাচন কমিশনেরও সংস্কার জরুরি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দলগুলোকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী ভাবছে, তা আমাদের জানাতে হবে। আমরা রাস্তায় না নামা পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ করে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ব্যানার ব্যবহার করে কেউ কেউ তদবির বাণিজ্যে জড়াচ্ছে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করে আমরা তাদের চিহ্নিত করব।
সমাবেশের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসে, কুমিল্লাকে আলাদা রাজ্যে রূপান্তর করবে। শেখ হাসিনা ও তার পিতার দীর্ঘদিনের দুঃস্বপ্ন ছিল কুমিল্লা। তিনি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার দাবিও তোলেন। সমাবেশে ৩৮ জন শহীদের পরিবার ও ৩০ জন আহত পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান ওয়াসিম, সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান প্রমুখ। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
