পাকিস্তানের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি বাজারে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে চার ব্যক্তি নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি দোকান ও একটি পাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ভবনে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গি সংগঠন এ হামলার দায় নেয়নি।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ঘটনার জন্য বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দিকেই সন্দেহের তীর ছোড়া হবে। কারণ তারা নিয়মিত বেলুচিস্তান ও দেশের অন্যান্য অংশে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষ লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করে থাকে।
বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শহিদ রিন্দ এই বোমা হামলার প্রতি নিন্দা প্রকাশ করেন এবং জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে সহিংসতা। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নিয়মিত সহিংস কার্যক্রমে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
ইসলামাবাদ প্রায়ই বিএলএ ও পাকিস্তানি তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকে দায় দেয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এই দুই সংগঠন পাকিস্তান জুড়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।
মার্চে বিএলএর সন্ত্রাসীরা বেলুচিস্তান থেকে হাজারো যাত্রী নিয়ে আসা এক ট্রেনে হামলা চালিয়ে ৩৩ ব্যক্তিকে হত্যা করে, যাদের বেশিরভাগই সেনাসদস্য। এক বিরল ঘটনায় এ মাসের শুরুর দিকে বিএলএ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সমর্থন চেয়েছে। ১১ মে বিএলএর বিবৃতিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এমন সময় বিএলএ সমর্থন চায়, যখন দুই পরমাণু ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা ও অস্থিরতা চলছিল।
ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের প্রতিনিধি (প্রক্সি) হিসেবে কাজ করে বিএলএ। তবে এই দাবি অস্বীকার করে সংগঠনটি জানায়, ‘আমরা যদি গোটা বিশ্বও, বিশেষত, ভারতের কাছ থেকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সমর্থন পাই, তাহলে বালোচ জাতি এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে নির্মূল করে একটি শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও স্বাধীন বেলুচিস্তান রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিমূল সৃষ্টি করতে পারবে।’
