বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি

আপডেট : ২৫ মে ২০২৫, ০৭:১৫ এএম

বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ চেয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি। বরং শুরু থেকেই গঠনমূলক সমালোচনা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করে আসছে।’ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পৌঁছায় বিএনপির প্রতিনিধিদল। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দলটি নেতারা।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, তিনটি বিষয়ের (সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন) একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা সংস্কার চলমান বিষয়। এটা চলতে থাকবে। আমরা আশা করেছি এ সরকার একটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটা সংস্কার প্রস্তাব দেবে। সেটা চলমান থাকবে। ভবিষ্যতে যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় বসায়, আমরা সেই সংস্কার চলমান রাখব এবং বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা নেব।’

বিএনপির নেতাদের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে আমরা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিক্ষুব্ধ। আমরা সেই স্বৈরাচারী সরকারের কর্তাব্যক্তিদের যারা দায়ী, তাদের বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বিলম্বিত হলে স্বৈরাচার পুনরায় ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপরে বর্তাবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যেকোনো অছিলায় নির্বাচন যত বিলম্ব করা হবে, আমরা মনে করি জাতির কাছে আবার স্বৈরাচার পুনরায় ফিরে আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। এর দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকার এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপরে বর্তাবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।’

ড. মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি প্রথম থেকেই একটি সুস্পষ্ট জাতীয় নির্বাচনী রোডম্যাপ (পথনকশা) দাবি করে আসছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করতে হবে। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী পারিবারিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ জন্য আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি সবচেয়ে বেশি বিএনপির। এই বিচারপ্রক্রিয়া কোনোভাবে অসম্পন্ন থেকে গেলে বিএনপি সরকারে গেলে তা বিচারের আওতায় এনে স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কখনোই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চাননি, বরং প্রথম দিন থেকেই এই সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে বিএনপি।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন তিনটি বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। তিনটিই ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু। দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা হলে বাংলাদেশে শান্তি শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’

বৈঠক নিয়ে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলবে। সংস্কার সহসাই সম্ভব। বিচারের কাজ বিচার বিভাগ করবে। সুতরাং ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন সম্ভব এটিও আলোচনা হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে রোডম্যাপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলেছে কি না? জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। সরকার তার প্রেসের মাধ্যমে পরবর্তীতে জানাবে। তারপর আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া  দেব। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছি আমরা। যাদের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ হচ্ছে। তাদের বাদ দেওয়ার জন্য আমরা আজকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কি না? জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এটা তারা দেখবেন। আমরা আমাদের কথা বলেছি।’ এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনেও এই তিন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি করা হয়। তাদের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য হচ্ছে তারা ‘বিতর্কিত’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত