২০৩০ সালের মধ্যে চামড়া খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, ১২:০৪ এএম

আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দিলে ২০৩০ সালের মধ্যে ট্যানারি খাতের রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যা পরবর্তী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ করা যাবে। ঢাকা চেম্বারে গতকাল রবিবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চামড়াশিল্পের কৌশল নির্ধারণ-এলডিসি-পরবর্তী টেকসই রপ্তানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত কিনোট পেপারে এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। কিনোট পেপারটি উপস্থাপন করেন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

কিনোট পেপারে বলা হয়, চামড়াশিল্পের বার্ষিক রপ্তানি ১.২ থেকে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ঘুরপাক খাচ্ছে। এর প্রধান কারণ নীতিগত সহায়তার ঘাটতি। চামড়া শিল্পনগরী হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর করা হলেও সিইটিপি পুরোপুরি চালু করা যায়নি, ফলে এ খাতের কাক্সিক্ষত রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘এলডব্লিউজির মতো আমাদের আন্তর্জাতিক কোনো সনদ না থাকায় বৈশ্বিক বাজার বাংলাদেশ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে না এবং এ খাতের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এ ছাড়া চামড়াশিল্পে কমপ্লায়েন্সের অনুপস্থিতির বিষয়টিও অন্যতম কারণ।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এ খাতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। চামড়াশিল্পের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত ইকো-সিস্টেম প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তবে ট্যানারি মালিকদের নদীতে বর্জ্য ফেলতে নিষেধ করে তিনি বলেন, ট্যানারির বর্জ্যরে কারণে নদীদূষণের ফলে মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দেশের মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে এ খাতের ওপর নির্ভরশীলদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ট্যানারি মালিক কারখানার বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল এবং অন্যান্য ইউটিলিটি চার্জ দিচ্ছেন না। যে কারণে আমাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তাই সময়মতো ইউটিলিটি চার্জ পরিশোধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।’

বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, সাভারে স্থাপিত সিইটিপির ক্যাপাসিটি বর্তমানে ১৪ হাজার কিউবিক মিটার এবং পিকসিজনে (কোরবানির সময়) এ খাতে চাহিদা থাকে ৩২-৩৫ হাজার কিউবিক মিটার। সিইটিপির সক্ষমতা ২০-২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীতকরণে একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত