অপরূপ সৌন্দর্যের শেরপুরের গারো পাহাড়। জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে পাহাড়ি বনভূমি। বন বিভাগের তিনটি রেঞ্জের অধীনে প্রায় ২১ হাজার একর বনভূমি রয়েছে।
সম্প্রতি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের দাউধারা কাটাবারী গহীন বনের ভেতর বিস্তীর্ণ এই জায়গাজুড়ে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। নাম দেওয়া হয়েছে দাওধারা গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাথমিক কাজের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
কাজ শুরুর পর বন্য হাতি সংরক্ষণ, সামাজিক বনায়ন বৃদ্ধি ও বনাঞ্চল টিকিয়ে রাখার সুপারিশে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনে জোরালো আপত্তি জানায় স্থানীয় বন বিভাগ। বন বিভাগের জোরালো আপত্তির মুখে এখন বন্ধ রয়েছে কাজ।
উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে স্থানটি পরিদর্শনে এসেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে হাতির স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই কারণেই তারা শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন।
তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই সপ্তাহে দেশে ১২টি বন্যহাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাভাবিক ঘটনা না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক জায়গাতে হাতি এবং মানুষ সহাবস্থান করছে, কখনো কোন দ্বন্দ্ব হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের জায়গা ও খাবার কম থাকার কারণে হাতি লোকালয়ে চলে আসে। হাতি লোকালয়ে এলেও তার জীবনটা আনন্দের হয় না বরং কষ্টের হয়। আমাদের কি করলে হাতি লোকালয়ে আসবে না সে ব্যাপারে আমাদের চিন্তা করতে হবে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রিজওয়ানা বলেন, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী অভিযান চলছে। অন্যদিকে, বিকালে মধুটিলা ইকোপার্কে হাতি মানুষ দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দেন উপদেষ্টা।
