চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্র্তৃক বাংলাদেশিদের পুশইন অব্যাহত রয়েছে। গত ২০ দিনে প্রায় ৬০০ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত তিন দিনের প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জনের পুশইন ঘটেছে। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে চারটি কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানালেও দিল্লি এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
কুড়িগ্রামে উত্তেজনা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি সীমান্তে গত মঙ্গলবার ভোরে ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফের সঙ্গে পুশইন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টার দিকে বিএসএফ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও বিএসএফ সাড়া দেয়নি। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক শামসুল হক জানান, পুশইনকৃত ব্যক্তিরা নো-ম্যানস-ল্যান্ডে রয়েছেন, এবং ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
মেহেরপুরে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে পুশইন :
রবিবার ভোরে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে পুশইন করা হয়, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু, পাঁচজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ। তারা জানান, তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং কাজের সন্ধানে ভারতের হরিয়ানায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাদের আটক করে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কারাগারে নিয়ে যায় এবং পরে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া হয়। মুজিবনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিরা কেদারগঞ্জ বাজারে অবস্থান করছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরায় ২৩ জনকে পুশইন :
মঙ্গলবার ভোরে সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে পুশইন করা হয়, যাদের মধ্যে সাতজন নারী, সাতজন পুরুষ ও ৯ জন শিশু। তাদের ২২ জন কুড়িগ্রাম ও একজন ঝালকাঠির বাসিন্দা। তারা হরিয়ানার ইটভাটায় কাজ করতেন। কুশখালী বিওপি কমান্ডার সুবেদার মেজবাহউদ্দিন জানান, আটক ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়েছে। সদর থানার ওসি শামিনুর রহমান জানান, তাদের আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৭ জন
মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বিভীষণ সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশইন করা হয়। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও ৯ জন শিশু, যাদের মধ্যে কয়েকজন ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন। রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান জানান, বিজিবি তাদের গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করেছে। থানার ওসি রইস উদ্দিন জানান, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ছিলেন এবং সীমান্তে ঘোরাঘুরির সময় বিজিবি তাদের হেফাজতে নেয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রাজশাহীতে বলেন, ‘সীমান্ত সম্পূর্ণ নিরাপদ। পুশইনের প্রতিবাদে ভারতকে যথাযথ চ্যানেলে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা নিজেদের দেশে অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের যেমন আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠাই, তেমনি বাংলাদেশিদেরও একই প্রক্রিয়ায় ফেরত নিতে প্রস্তুত।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
সীমান্তে চলমান পুশইন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান ও আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
