চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ০২:১১ এএম

চীনের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের পর এবার উচ্চশিক্ষা খাতে বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা ‘আগ্রাসীভাবে’ বাতিল করবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে রুবিও বলেছেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আমাদের নজরে রয়েছেন। ভবিষ্যতে চীন এবং হংকংয়ের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বাড়তি কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান রুবিও। এজন্য ভিসা প্রদানের মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক হাজার চীনা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসে যেমন ব্যাঘাত ঘটবে, তেমনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও মেধাবী নবীন কর্মী খুঁজে পেতেও কিছুটা বেকায়দায় পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের তথ্যমতে, সে বছর যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ ছিল ভারতীয় এবং চীনা। দেশটির অর্থনীতিতে ৫ হাজার কোটি ডলার অর্থমূল্যের বেশি সেবা প্রদানে তাদের অবদান ছিল।

এদিকে, আগ্রাসীভাবে’ চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের ঘোষণার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ‘রাজনৈতিক ও বৈষম্যমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চীন সরকারের মুখপাত্র মাও নিং অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আদর্শগত অজুহাতে ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে চীনা শিক্ষার্থীদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ব্যাহত হয়েছে।

মাও নিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কথিত স্বাধীনতা ও উদারতার মুখোশ পরে থাকে, এই রাজনৈতিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত তা উন্মোচন করে দিয়েছে; বিশ্ববাসীর কাছে নগ্ন করে দিয়েছে

তাদের আসল চেহারা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ভাবমূর্তি এবং রাষ্ট্রীয় বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত