২০২৫ হজ মৌসুমে লাখ লাখ হজযাত্রীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সৌদি আরব এ যাবৎকালের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্য প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জরুরি চিকিৎসা অবকাঠামোর বিস্তৃত এক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা পবিত্র স্থানসমূহে আগত হাজিদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি রিয়াদে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল জালাজেল হজ উপলক্ষে গৃহীত চিকিৎসা প্রস্তুতির ব্যাপকতা ও অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, এবারের হজ মৌসুমে ১১টি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ৯০০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৭১টি ফার্স্ট এইড পয়েন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এসব পয়েন্টে ৭ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি প্যারামেডিক কর্মরত রয়েছেন, যারা একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তি নির্ভর জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন বলে জানান আল জালাজেল। এ পর্যন্ত ১৪টি প্রবেশপথে ৫০ হাজারেরও বেশি মুসল্লিকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৪টি প্রবেশপথে ৫০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। এ বছর হজ মৌসুমে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা বাড়তে থাকা হজযাত্রীদের সংখ্যা মাথায় রেখে নেওয়া একটি অগ্রসরমাণ পরিকল্পনার অংশ।’
এই জরুরি প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগগুলো সুপ্রিম হজ কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো হাজিদের জন্য একটি নিরাপদ ও আত্মিক তৃপ্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এবারের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে মিনায় নির্মিত একটি নতুন জরুরি হাসপাতাল, যার ধারণক্ষমতা ২০০ বেড। এর পাশাপাশি তিনটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মোট ১২শ’র বেশি বেড রয়েছে। এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ডের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, হাজিদের স্বাস্থ্য অবস্থা দ্রুত পর্যবেক্ষণের জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিচালনা করছে সৌদি ডেটা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি। যারা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন, তাদের শরীরে স্মার্ট সেন্সর সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সেহা ভার্চুয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। এই হাসপাতালটিকে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্চুয়াল হাসপাতাল হিসেবে উল্লেখ করেন।
