সেতু-স্কুল ঝুঁকিতে ফেলে নদী থেকে বালু উত্তোলন

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ০২:৪১ এএম

ঢাকার ধামরাইয়ে সেতু -স্কুল ঝুঁকিতে ফেলে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন এক বিএনপি নেতা। শরিফুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে রাস্তায় বালু ভরাটের কাজ করছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় চলছে সমালোচনার ঝড়। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযুক্ত নেতা হাবিবুর রহমান বাদশা উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে বংশী নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদশা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাশের স্কুল থেকে পাইপ দিয়ে পানি এনে মাটি নরম করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু-মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। কেউ কাজে বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যে স্থানে বালু তোলা হচ্ছে তার ১০০ ফুট পশ্চিমে নদীর ওপর রয়েছে একটি সেতু, নদীর পাড় ঘেঁষা সরকারি রাস্তা ও বিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। উত্তর পাশে রয়েছে চাষের জমি। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চললে রাস্তা, ব্রিজ ও ফসলের জমি নদীতে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদশা বলেন, ‘রাস্তা ভরাট করার জন্য নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে।’ কিন্তু অনুমতিপত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজটি করছেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হাবিবুর রহমান বাদশা। এ কাজের জন্য আমাকে কিছু খরচ দিতে পারে, কারণ তিনি আমার লাইসেন্স ব্যবহার করছেন। এর বাইরে আমি কিছুই জানি না।’

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বংশী নদী থেকে বিএনপি নেতার বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জানি না। আমার অফিসে এ বিষয়ে কোনো অনুমতিপত্রও নেই।’

ধামরাই উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি সামসুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অবৈধভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দীন বলেন, ‘নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার স্থাপন করা মাটি ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নয়। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমি ড্রেজারের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কাজ রাস্তা দেখা। ঠিকাদার কোথা থেকে মাটি এনে ভরাট করবে তা আমার বিষয় নয়। রাস্তার কাজ করলে বিল পাবে, আর করতে না পারলে বিল তুলতে পারবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত