টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দায়িত্ব পেয়েছেন মে মাসের ৩০ তারিখ, অক্টোবরেই বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার সূচি। তাই তিন মাসের কিছুটা বেশি সময়ই হাতে পাচ্ছেন আমিনুল, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তাই বলেছিলেন টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে চান। দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান রবিবার সাংবাদিকদের একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, সভাপতি হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে চান। এবার অবশ্য রান নয়, সেঞ্চুরি করতে চান সফল কর্মসূচির মাধ্যমে।
‘এখানে আমরা তিনটি কাজ... আমরা বলছি যে ট্রিপল সেঞ্চুরি করব। শতভাগ ট্রাস্ট, শতভাগ প্রোগ্রাম ও শতভাগ রিচ। বাংলাদেশের শতভাগ জায়গায় আমরা পৌঁছাব, আমাদের আস্থা থাকবে, আমাদের প্রোগ্রাম থাকবে। এই ট্রিপল সেঞ্চুরি করার জন্য ক্রিকেট বোর্ড তিনটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। আমরা স্পিরিট অব ক্রিকেট আপগ্রেড করব। দ্বিতীয়ত, সবার জন্য হাই পারফরম্যান্স। শুধু ক্রিকেটার নয়, যারা বোর্ডের কর্মকর্তা আছেন, তাদের কাজও যেন হাই পারফর্মিং হয়। তিন নম্বর হচ্ছে, ক্রিকেটটা দেশব্যাপী কানেক্ট করব’ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার ভালো করেই জানা, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কক্ষপথে ফেরাতে কোন কাজগুলো করা দরকার। সেই আলোকেই বুলবুল বলেছেন বিকেন্দ্রীকরণের কথা, ‘ক্রিকেট বোর্ড শুধু মিরপুরে বসে থাকবে না। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার সময় আঞ্চলিক সংস্থার কাঠামো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। যেভাবেই হোক... আমলাতান্ত্রিক হয়ে হোক, এনএসসিও আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। এর আগে শুধুমাত্র ক্রিকেট নিয়ে দেশের সব জায়গায় আঞ্চলিক সংস্থার মতো করে ছড়িয়ে যাচ্ছি খুব শিগগির। আইসিসির কাছে এটা আমাদের একটা প্রতিশ্রুতি ছিল। এখন এটা এক নম্বর প্রায়োরিটি। অবশ্যই ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সও এর সঙ্গে আছে।’
একই সঙ্গে বুলবুল বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রেই, ‘এটা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নয়, ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণ করব। আমরা অঞ্চলগুলোকে কিন্তু বোর্ড থেকে কোনো অনুদান দেব না। পারফরম্যান্স, ক্রিকেটারের সংখ্যা, নিজস্ব সুবিধাদি, কোচ, আম্পায়ারদের সংখ্যা মিলিয়ে তাদের অর্জন করে নিতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে তারা যেভাবে কাজ করবে, সেভাবে তাদের ফান্ডিং দেওয়া হবে। এই ফান্ডিং মডেলটাও আমরা করে দিচ্ছি।’
ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণের এই ফরমুলা অবশ্য বহু পুরাতন। অতীতে নাজমুল হোসেন পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও এমন উদ্যোগ নিয়েছে, আঞ্চলিক ক্রিকেট বোর্ড গঠনও হয়েছিল সিলেটে। কিন্তু সেসবই ছিল কাগুজে উদ্যোগ। বুলবুল কাজ করতে চান ভিন্ন প্রক্রিয়ায়, ‘এটা আমাদের একটা আবশ্যিক চাহিদা। এটা পূরণের জন্য যদি কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নেব। সবার সমর্থন নিয়েই করতে হবে। প্রতিবন্ধকতা যদি আসে, প্রথমে হয়তো শুধু ক্রিকেটটা নিয়ে পৌঁছাব। এরপর আঞ্চলিক সংস্থাটা করব।’
এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, কানেক্ট অ্যান্ড গ্রো-এর যে প্রোগ্রাম আছে, আমরা ক্রিকেট নিয়ে তৃণমূলে পৌঁছাব। বোর্ড পরিচালকদের মাধ্যমে আমরা কাজগুলো করব। তবে আমলাতান্ত্রিক উপায়ে নয়। খুবই সিম্পল উপায়ে, ক্রিকেট নিয়ে সবার কাছে পৌঁছাব।’
বুলবুল বলেন, ‘আমরা স্কুল ক্রিকেটকে নতুন করে সাজাব। তখন অটোমেটিক জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও ভালো হবে। অ্যাভেইলেবল ভালো খেলোয়াড় বা হাইপারফরম্যান্স খেলোয়াড় বেশি থাকবে আমাদের কাছে।’
দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই বুলবুল বলেছিলেন তার দর্শন ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট’ নয়, ‘ক্রিকেট ইন বাংলাদেশ’, অর্থাৎ শুধু জাতীয় দল নয় সামগ্রিকভাবে একটি ক্রীড়া হিসেবে ক্রিকেটকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং একটা প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। যে লক্ষ্যে পৌঁছানোর রোডম্যাপও বুলবুল দেখিয়েছেন আগের দিন বোর্ড সহযোগীদের প্রেজেন্টেশন হিসেবে। বোর্ড সভাপতি হিসেবে যা অনন্য একটি উদাহরণ। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের পরিকল্পনাগুলো দারুণ, এই নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই। তবে বাস্তবায়নের জন্য সময়টা যে তার হাতে বড্ড কম!
