ডিক্যাব টকে গোয়েন লুইস

আ.লীগ না থাকলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। তিনি রাখাইন করিডর ও রোহিঙ্গা প্রতিবেদন নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গোয়েন লুইস বলেন, জাতিসংঘের দৃষ্টিকোণ থেকে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মানে প্রতিটি বাংলাদেশির মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র প্রভাবিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। এটি সরকার ও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বিষয়। জাতিসংঘ রাজনীতিতে জড়িত নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পারি। তবে নির্বাচন কখন এবং কীভাবে হবে, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

রাখাইনে মানবিক করিডর প্রসঙ্গ : রাখাইনে মানবিক করিডর স্থাপন নিয়ে গোয়েন লুইস বলেন, ‘এটি একটি আইনি বিষয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্মতি ছাড়া জাতিসংঘ কোনো করিডর গঠন করতে পারে না। এখনো এমন কোনো চুক্তি হয়নি এবং জাতিসংঘ এ বিষয়ে কোনো আলোচনার অংশ নয়। রাখাইনের পরিস্থিতি জটিল ও সংঘাতপূর্ণ। জাতিসংঘের উপস্থিতি সেখানে সীমিত, তবে কিছু অংশীদার এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকায় মানবাধিকারবিষয়ক অফিস : ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক অফিস স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত, শিগগিরই ছোট আকারে তা চালু হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

রোহিঙ্গা প্রতিবেদন নিয়ে ব্যাখ্যা : জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডিসেম্বর ২০২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭১ হাজার ৩০০ মানুষ ভারতে প্রবেশ করেছে। তবে বাংলাদেশে নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশের তথ্য অনুপস্থিত থাকায় বাংলাদেশ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এ বিষয়ে গোয়েন লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার তখন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের অনুমোদন না দেওয়ায় আমরা নতুন রোহিঙ্গা প্রবেশের তথ্য ম্যাপে যুক্ত করিনি। পরে সরকারের অনুমোদন পাওয়ায় তথ্য আপডেট করা হয়েছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো বিতর্ক নয়, বরং যোগাযোগজনিত ভুল। জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত