ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নারী ও শিশুসহ ১২ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক এদেশে পুশইন করেছে। আন্তজার্তিক সীমানা আইন বা নাগরিক হস্তান্তর পদ্ধতি লঙ্ঘন করে মঙ্গলবার (১০ জুন) ভোরে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস সীমান্ত দিয়ে গোপনে এই ১২ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ।
মুজিবনগর সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আনন্দবাস ক্যাম্পের সদস্যরা জানান, ভোর রাতে বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গ চাপড়া সীমান্ত অতিক্রম করে এদেশের সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এসব বাংলাদেশিকে ঠেলে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
বিজিবি চুয়াডাঙ্গা- ৬ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল হাসান জানান, আটককৃতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে ফেরত পাঠিয়েছে। অধিকাংশের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
আটককৃত লোকমান আক্তার জানান- তারা ১০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তখন বিএসএফকে টাকা দিয়ে তাদের ভারতে ঢুকতে হয়েছিল। তারা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে গিয়ে দিনমজুর, হোটেল কর্মী ও কৃষিকাজে নিযুক্ত ছিলেন। সেখানে তাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে সম্পদ গড়ে বসবাস শুরু করেন। দুই সপ্তাহ আগে হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভারতীয় পুলিশ তাদের খুঁজে খুঁজে আটক করে এবং পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বহরমপুরের একটি কারাগারে বন্দি করে রাখে। সেখান থেকেই পরে বিএসএফ তাদের সীমান্তে জড়ো করে। গতরাতে অস্ত্রের মুখে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করতে বাধ্য করে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে ১২ জনকে আটক করে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটককৃতদের যাঁচাই-বাঁছাই চলছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ে গত ৩০ দিনে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১০০ জনকে পুশইন করলো বিএসএফ।
অস্ট্রিয়ায় বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৮
১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া: বাণিজ্য উপদেষ্টা