আবেগঘন পরিবেশে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধবন্দি বিনিময়

আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ০৫:৪২ এএম

রাশিয়া ও ইউক্রেন গত সোমবার আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে ২৫ বছরের কমবয়সী যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পরিকল্পিতি এক ধারাবাহিক বন্দি বিনিময়ের প্রথম ধাপ যা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিনিময় হয়ে উঠতে পারে।

রয়টার্স বলছে, গত ২ জুন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ফল এ বিনিময়। ওই আলোচনায় উভয়পক্ষ থেকে অন্তত ১২০০ যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের ও যুদ্ধে নিহত কয়েক হাজার মৃতদেহ নিজে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়।

চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইস্তাম্বুলে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেনি তারা। আলোচনায় দুই পক্ষ যে অল্প বিষয়ে একমত হতে পেরেছিল তার একটি এই যুদ্ধবন্দি ও নিহতদের মৃতদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার সমঝোতা।

ইউক্রেনীয় কর্র্তৃপক্ষের প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনের ফিরে আসা বন্দি সেনারা উত্তর ইউক্রেনের সীমান্ত পেরিয়ে যেখানে মিলিত হচ্ছিলেন সেখানে এক কর্মকর্তা এক মুক্ত সেনার হাতে একটি মোবাইল ফোন তুলে দেন যেন তিনি তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ওই সেনা তার মাকে ফোন বলে বলেন, ‘মা, কেমন আছো? আমি ফিরে এসেছি, আমি বাড়িতে!’

রয়টার্স জানায়, প্রবল আবেগে ভেসে যেতে থাকা এই সেনাকে তার নিশ্বাস সামলাতেও কষ্ট করতে হচ্ছিল, প্রায় চিৎকার করে কথা বলছিলেন তিনি। মুক্তি পাওয়া ইউক্রেনীয় সেনাদের এখান থেকে বাসে করে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় এক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং গোসল, খাবার ও মোবাইল ফোন, জুতাসহ ‘কেয়ার প্যাকেজ’ দেওয়া হবে। সোমবার কতজন বন্দি বিনিময় হয়েছে তা কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি। শুধু রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, উভয় পক্ষ থেকেই সমসংখ্যক সামরিক বন্দি বিনিময় করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই বিনিময় রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কয়েক ধাপে পরিচালিত হবে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ফিরে আসা সেনারা এখন রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশে আছে। সেখানে তাদের মনোদৈহিক ও মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে তারপর আরও সেবা-যতেœর জন্য রাশিয়ায় পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত