কোন ভুলে শিরোপা হাতছাড়া অস্ট্রেলিয়ার, জানালেন কামিন্স

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) মুকুটটা এবার উঠল প্রোটিয়াদের মাথায়। ২০২৫ সালের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৮২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় লড়াই করেও শেষ হাসি হাসতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। হারের বেদনায় ভারী অজি শিবির—জয়ের চেয়ে কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসার হতাশায় পোড়াচ্ছে প্যাট কামিন্সদের।

তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক নিজেই। প্রথম ইনিংসে বল হাতে পাঁচ উইকেট তুলে নেন কামিন্স। কিন্তু ব্যাট হাতে ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয়েছে গোটা দলকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্যাট কামিন্স বললেন, "স্পষ্টতই হতাশাজনক। এত পরিশ্রম করে ফাইনালে এসে সামান্য ব্যবধানে হেরে যাওয়া কষ্ট দেয়। সুযোগটা আমাদের ছিল, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি।"

প্রশ্ন ছিল কোথায় পিছিয়ে পড়ল অস্ট্রেলিয়া? কামিন্স জানালেন, প্রথম ইনিংসেই সুযোগটা হারিয়েছে তারা, "প্রথম ইনিংসের লিডটা ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে আরও বড় স্কোর গড়ার সুযোগ ছিল, ৩০০-৩৫০ হলে আমরা ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারতাম। কিন্তু সেই জায়গায় আমরা ওদের ম্যাচে ফিরিয়ে দিয়েছি।"

এই ম্যাচ ঘিরে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠে গেছে। কামিন্সের ভাষায়, "আমরা জানতাম এই কন্ডিশন ভিন্ন ধরনের। প্রথম দিন টস হারার পর ব্যাটিংয়ে নামাটা সহজ ছিল না। তবে হ্যাঁ, আমাদের শীর্ষ তিন ব্যাটার হয়তো ভাবছে আরও কিছু করা যেত।"

প্রথম ইনিংসে বল সুইং করছিল, সাহায্য করছিল আবহাওয়া। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে তা উধাও! কামিন্স বললেন, "দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি সুযোগ পাইনি আমরা। বল ব্যাটে ভালো আসছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা অসাধারণ রক্ষণ খেলেছে, সুযোগ দেননি।"

ডব্লিউটিসির এই হার অনেক কিছু ভাবাচ্ছে অজি নেতৃত্বকে। নতুন চক্র শুরু হচ্ছে, তাই আবারও দল নিয়ে ভাবনার সময়। প্যাট বললেন, "এটা এক ধরনের রিসেট। সামনের টেস্টে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ) বসে ভাবতে হবে কারা থাকবে, কারা আসবে।"

স্টিভ স্মিথের চোট নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে প্রথম টেস্টে না থাকাটাই বাস্তবসম্মত। আর খাজার ব্যাট যেন চুপ! প্যাট বললেন, "উজি দারুণ অভিজ্ঞ, কঠিন সময় কাটিয়ে ফিরতে জানে। তবে রান করতেই হবে। সবার মতো তাকেও সেটা প্রমাণ করতে হবে।"

প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার প্রশংসায় কুণ্ঠিত নন কামিন্স। বললেন, "টেম্বা সুযোগ পেয়েছিল, কাজে লাগিয়েছে। ওর নেতৃত্বে দলটা দুর্দান্ত খেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা পুরোপুরি প্রাপ্য হিসেবে ট্রফি জিতেছে।"

অনেকে আইপিএলে খেলার পর টেস্টে এসে খাপ খাওয়াতে পারেননি বলে মন্তব্য করলেও কামিন্স বলছেন ভিন্ন কথা, "প্রস্তুতিটা যথাযথ ছিল। মেডিকেল টিম, বোলার সবাই দারুণভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেছিল।" পাশাপাশি এডেন মার্করামের ইনিংস নিয়েও প্রশংসা ঝরেছে তার কণ্ঠে, "ও অসাধারণ ব্যাট করেছে। ওকে আউট করাটা ছিল দারুণ কঠিন।"

শেষ পর্যন্ত, দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রমাণ করল—‘চোকার্স’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে হলে শুধু ইতিহাস নয়, বদলাতে হয় মনোভাব। আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য এ হার নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিল, যেখানে পুরোনো গৌরব নয়, ভবিষ্যতের পথে হাঁটা জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত