স্কুলে হামলায় হতভম্ব অস্ট্রিয়া উত্তর খুঁজছে ফ্রান্স

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ১২:০৯ এএম

অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি মর্মান্তিক স্কুল হামলা উভয় দেশের সরকার এবং জনগণকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। এই হামলাগুলো স্কুলশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

গত মঙ্গলবার সকালে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় নোজেন্ট শহরে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর, কুয়েন্টিন, স্কুলে ব্যাগ তল্লাশির সময় রান্নাঘরের ছুরি বের করে ৩১ বছর বয়সী একজন স্কুল সহকারীকে হত্যা করে। প্রসিকিউটরের মতে, সাধারণ পরিবারের এই কিশোর গত শুক্রবার একজন সহকারীর কাছে তিরস্কার পাওয়ায় স্কুল সহকারীদের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করছিল। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না হলেও, হিংস্র ভিডিও গেমের প্রতি আসক্ত ছিল এবং মৃত্যুর প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষণ দেখাত।

এদিকে, অস্ট্রিয়ার গ্রাজ শহরের ড্রেইয়ারশুটজেনগাসে হাইস্কুলে ২১ বছর বয়সী প্রাক্তন ছাত্র বন্দুক হামলা চালায়। তিনি ৯ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষককে হত্যা করেন এবং নিজে স্কুলের বাথরুমে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ জানায়, আরথার নামের ওই সাবেক শিক্ষার্থী তিন বছর আগে স্কুল ছেড়েছিল এবং ফার্স্ট-পারসন শুটার গেমের প্রতি আসক্ত ছিল। সে আইনিভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেও, ২০২১ সালে মানসিক অযোগ্যতার কারণে সামরিক বাহিনীতে প্রবেশে ব্যর্থ হয়েছিল। এ ঘটনা অস্ট্রিয়ার অস্ত্র আইন এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

অস্ট্রিয়ায় প্রতি ১০০ জনে ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা ইউরোপের মধ্যে উচ্চ। প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান ডার বেলেন অস্ত্র আইন কঠোর করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। গ্রাজের মেয়র এলকে কাহর বলেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র মালিকানা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিত। ফ্রান্সে, নোজেন্ট হামলা স্কুলে নিরাপত্তা বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রো ছুরি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং স্কুলে মেটাল ডিটেক্টর পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে এই হামলা গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতেও ঘটেছে। বিবিসি বলছে, উভয় দেশেই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানোর দাবি উঠেছে। ফ্রান্সে স্কুলে মনোবিজ্ঞানী ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে, তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত