এগারো মাস পর মারা গেলেন জুলাই যুদ্ধা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ০২:৪৫ এএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ইমরান হোসেন (২৬) মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে গাজীপুরের ভাড়া বাসায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরে রাতেই তার লাশ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলের মুশলী ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে আনা হয়। শনিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। তিনি এই এলাকার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।  

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)  ফয়জুর রহমান,  উপজেলায় দায়িত্বরত এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আশিকিন আলম ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইমরান গাজীপুর জেলার তারগাছ এলাকায় হাসানের বাসায় ভাড়া থেকে একই এলাকার মুন লাইট নামক একটি পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি করতো। ২০২৪ জুলাই আন্দোলন শুরু হলে তিনি নিজেও মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। একপর্যায়ে ছড়া গুলির আঘাতে আহত হলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে বাসায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবারও নিজ পেশায় যোগদান করেন।  শুক্রবার (১৩ জুন) রাত বারোটার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচন্ড  ব্যাথা অনুভব হলে তার স্ত্রী রীতা আক্তার প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহতের ছোট ভাই ইব্রাহিম জানান,সুস্থ হয়ে চাকরি করলেও মাঝে মধ্যে তার বুকে ব্যাথা হতো এবং তার চিকিৎসায় কেউ সাহায্য করে নি।

এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক আশেকিন আলম রাজন জানান,তাকে জুলাই যুদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা চাই। 

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফয়জুর রহমান জানান,সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিভিন্ন ভয়ভীতি থেকে কোন তালিকাতেই তিনি জুলাই যুদ্ধা হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করেন নাই। চোখের চিকিৎসার একটি কাগজ আমাদের দেখিয়েছেন বাকি কাগজপত্র গাজীপুরের বাসায় আছেন বলে পরিবারের লোকজন আমাদের জানিয়েছেন। তথ্য প্রমাণ যুক্ত করে  জুলাই যুদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে  আবেদন করবেন তার পরিবার। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত