টানা ১৭ দিন বন্ধ থাকার পর পুরোপুরি চালু হয়েছে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গতকাল শনিবার থেকে এই বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন রোগীরা। এর আগে জরুরি ও বহির্বিভাগ খুলেছিল।
গতকাল শনিবার সকাল থেকেই হাসপাতালে আসেন চিকিৎসক ও নার্সসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীরা। চিকিৎসা নেওয়ার জন্য রোগীদেরও আসতে দেখা গেছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয় নিয়েই কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রেজওয়ানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৭ দিন ধরে একটা হাসপাতাল বন্ধ। আমরা চাচ্ছিলাম চালু করার জন্য। ১৭ দিন পর চালু হলো। প্রথম দিনই ১৪৫০ জনের মতো রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন। ৩৯ জনের মতো রোগী ভর্তি হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। সবার ভেতর একটা আতঙ্ক আছে। ভয় কাজ করছে। সবাই আতঙ্কের মধ্যেই কাজ করছেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, আতঙ্ক-ভয় নিয়েই হাসপাতাল চালু করতে বাধ্য হলাম। কারণ প্রতিদিন সারা দেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। এসব রোগী ১৭ দিন ধরে হাসপাতালে আসতে পারছিলেন না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ ব্যাপারে ডা. রেজওয়ানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে, সেই জুলাই যোদ্ধাদের দেখে যাদের হাসপাতালে থাকার দরকার নেই তাদের চলে যেতে বলেছে। তারা বাড়িতে চলে যাবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত করছে। আমরা সেবার মানসিকতা নিয়েই এই পেশায় এসেছি। সেবা দিতে হবে। তবে সবার মধ্যে ভয় আছে। ভয় নিয়েই কাজ করছেন। স্বাভাবিক কর্মস্পৃহায় ব্যাঘাত ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধারা পাঁচজন আছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন চারজন ও একজন ভর্তি ছাড়া। এই পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫০ জন যে ছিলেন, তারা চিকিৎসা ফাইলসহ বাড়িতে চলে গেছেন। অথচ চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ভর্তি রোগী হাসপাতাল ছাড়তে পারেন না। সেখানে সরকারি কাগজপত্র ও চিকিৎসা তথ্য সংবলিত কাগজপত্র নিয়ে চলে গেছেন। অর্থাৎ বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় পড়ে না।
এর আগে গত ২৮ মে চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের সংঘর্ষে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। হামলায় আহত হন ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী। পরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেদিনই সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যান ভর্তি রোগীরাও। শুধু জুলাই যোদ্ধারা হাসপাতালে ছিলেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়েছে।
সেই থেকে গত শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতাল বন্ধ ছিল। এর আগে অবশ্য গত ৪ জুন জরুরি বিভাগ ও গত বৃহস্পতিবার বহির্বিভাগ চালু করা হয়। কিন্তু রোগী ভর্তি বন্ধ ছিল। গতকাল থেকেই রোগী ভর্তিসহ পুরোদমে চালু হলো হাসপাতালটি।
