আলীকদমে পর্যটকের মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনায় মামলা

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

বান্দরবানের আলীকদমে ক্রিসতং-রুংরাং পাহাড়ে ট্র্যাকিং করতে এসে দুই পর্যটকের মৃত্যু এবং এক জন নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। এতে ‘গাফিলতির অভিযোগে’ ফেসবুক ভিত্তিক একটি ট্যুর গ্রুপের অ্যাডমিন বর্ষা ইসলাম বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার সকালে বর্ষাকে আসামি করে আলীকদম থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত পর্যটক স্মৃতি আক্তারের বাবা হাবিবুর রহমান। আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বর্ষা ইসলাম বৃষ্টি যশোর  জেলার চৌগাছা থানার জগদীশপুর ইউপির আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তার ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিভিন্ন ট্যুরের আয়োজন করতেন। তার আয়োজিত ‘ক্রিসতং রুংরাং সামিট (৩০তম)’ অভিযানে অংশ নিতে স্মৃতি আক্তার গত ৮ জুন আলীকদমে যান। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার  যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবশেষে শুক্রবার  তৈন খালের  মোড় এলাকা থেকে স্মৃতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এজাহারে আরও বলা হয়, বর্ষা ইসলাম স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাত্র একজন গাইড (সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা) নিয়ে ৩৩ জনের একটি বড় দল নিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ট্যুর পরিচালনা করেন। তিনি অংশগ্রহণকারীদের আবহাওয়া ও পথের ঝুঁকি সম্পর্কে জানাননি। গত রবিবার  তারা রুংরাং ক্রিসতং ট্রেইলে যাত্রা করেন। বর্ষা নিজে ১২ জন ও গাইডকে নিয়ে অন্য এক পথ ধরে যান। যার মধ্যে স্মৃতি আক্তারও ছিলেন। আর বাকিদের একজন অননুমোদিত সংগঠক মো. হাসান চৌধুরী শুভর তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে দেন। এরপর গত মঙ্গলবার  শামুক ঝরনা এলাকায় পাহাড়ি ঢলে স্মৃতি আক্তার, শুভ ও শেখ জুবাইরুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরদিন বুধবার  জুবাইরুলের ও শুক্রবার  স্মৃতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন মো. হাসান চৌধুরী শুভ।

মামলার বাদী স্মৃতির বাবা অভিযোগ করেন, বর্ষা ইসলামের দায়িত্বহীনতা, অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই তার  মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

তবে বর্ষা ইসলাম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন, তিনি একটি পাঁচ দিনের ভিন্ন ট্যুরে ছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে অন্য একটি তিন দিনের ট্যুরে, যার দায়িত্বে ছিলেন নিখোঁজ কো-অপারেটর মো. হাসান চৌধুরী। আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল্লাহ আল মুমিন জানিয়েছেন, কোনো পর্যটক উপজেলা সদরের বাইরে ভ্রমণে গেলে উপজেলা পর্যটন সেবাকেন্দ্রে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। প্রতি ১০ জনের জন্য একজন করে নিবন্ধিত ট্যুরিস্ট গাইড নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু ট্যুর এক্সপার্ট বর্ষা ইসলাম ১২ পর্যটকের নাম ও ঠিকানা দিয়ে ৩৩ পর্যটকের জন্য মাত্র এক জন ট্যুরিস্ট গাইড নিয়েছিলেন সঙ্গে। ১২ জন ট্যুরিস্ট এক জন গাইড নিয়ে আরও দূরে ভ্রমণে গেছেন। ২২ জন পর্যটককে কোনো গাইড ছাড়া ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ জন্য দুর্ঘটনায় পড়ে তিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো একজনের কোনো হদিস মিলছে না।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৯ জুন ট্যুর এক্সপার্ট গ্রুপের অ্যাডমিন বর্ষার নেতৃত্বে ৩৩ পর্যটকের একটি দল আলীকদম যান। এ দলের কো-হোস্ট ছিলেন হাসান নামে একজন এবং স্থানীয় গাইড ছিলেন সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আলীকদম উপজেলার ক্রিসতং পাহাড় ও থানচির লিমান লিবলু এবং সাকাহাফং চূড়া জয় করা। পরে পর্যটক দলটি ২২ ও ১১ জনের দুটি দলে বিভক্ত হয়। যাত্রাপথে ২২ জনের দলটি তৈন খাল পারাপার হওয়ার সময় ১৯ জন নিরাপদে পার হলেও স্রোতের তোড়ে কো-হোস্ট হাসানসহ তিন জন পার হতে পারেননি। অতিবৃষ্টিতে প্রবল পানির স্রোতে স্মৃতি আক্তার, হাসান চৌধুরী শুভ এবং শেখ জুবাইরুল ইসলামসহ তিন পর্যটক নিখোঁজ হন। পরে ১২ ও ১৩ তারিখ স্মৃতি আকতার ও জুবাইরুল ইসলামের লাশ পাওয়া গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শুভ ।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিনিয়া চাকমা জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্মৃতির বাবার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বর্ষাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত