নিষিদ্ধ আকাশমণির ৩ হাজার চারা বন বিভাগের নার্সারিতে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ১২:১০ এএম

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বন বিভাগের নার্সারিতে দেখা মিলেছে রোপণ, উত্তোলন, সরবরাহ, বিক্রয় ও বিপণন-নিষিদ্ধ আকাশমণি গাছের তিন হাজার চারা।

গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সংলগ্ন বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নার্সারিতে ওইসব চারা নজরে আসে। এগুলো সেখানে পরিচর্যা করা হচ্ছিল। প্রায় এক ফুট উচ্চতার এ চারাগুলো নিষিদ্ধ করার আগেই উৎপাদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা। তবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর চারাগুলো নষ্ট না করায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের বৃক্ষপ্রেমী ফেরদৌস হাসান রাতুল বলেন, ‘আকাশমণি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হলেও এগুলো মাটিতে পানির স্তর কমিয়ে দেয়। এর ফলে আশপাশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যায়। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ গাছগুলো আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। আগামীর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আমাদের এখনই এসব গাছ রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আকাশমণি গাছের চারা সরকারি বন বিভাগের নার্সারিতে শোভা পাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিষিদ্ধ ঘোষণার পরপরই চারাগুলো নষ্ট করা উচিত ছিল। উপরন্তু সরকারি ওই নার্সারিতেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে এসব চারা।

উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘আকাশমণি গাছের এ চারাগুলো আমরা আগে উৎপাদন করেছি। তবে এখন যেহেতু সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, সেহেতু ভবিষ্যতে আমরা আর আকাশমণি গাছের চারা উৎপাদন করব না। তবে নিষিদ্ধ ওই গাছের চারা কেন নষ্ট করা হয়নি, এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই বন কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, ‘পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা উৎপাদন, রোপণ ও বিপণন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে আমরা নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কেউ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বন বিভাগের নার্সারিতে আকাশমণি চারা থাকার বিষয়টি আগে থেকে তার জানা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত