বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল পাঠাতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরই মধ্যে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে সংস্থাটি। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতির ভিত্তিতেই এই মিশনের অনুমোদন দেবে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইইউ ইতিমধ্যে প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। যেহেতু এটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ নেবে।’
তিনি আরও বলেন, এই অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে, তারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠাবে কি না।
আগেও এসেছিল অনুসন্ধান দল : ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ইইউর ছয় সদস্যর একটি অনুসন্ধানী দল বাংলাদেশ সফর করে। রিকার্ডো চেলেরি নেতৃত্বাধীন সেই দলটি সম্ভাব্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, লজিস্টিক ও বাজেটসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে। তারা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল।
অনুসন্ধানী মিশনের লক্ষ্য : ইইউর এই প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দলের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিরূপণ। সাধারণত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্যই এ ধরনের মিশন মোতায়েন করা হয়ে থাকে।
অনুসন্ধানী মিশনের মূল্যায়নের বিষয়গুলো
পরিধি : নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও পর্যবেক্ষণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র; পরিকল্পনা : লজিস্টিক ও অপারেশনাল প্রস্তুতি; বাজেট : সম্ভাব্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের ব্যয় নির্ধারণ; লজিস্টিক সহায়তা : মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা; নিরাপত্তা : নির্বাচনী পরিবেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি; অংশীদারদের দৃষ্টিভঙ্গি : রাজনৈতিক দল, সংখ্যালঘু, নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইইউ পৃথিবীর বহু দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দল পাঠিয়ে থাকে। বাংলাদেশের নির্বাচনেও তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে। সে কারণেই নির্বাচন পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য অনুসন্ধানী দল পাঠাতে চায়।’
২০০০ সাল থেকে ইইউ বিশ্বের ৬৫টিরও বেশি দেশে ১৮০টিরও বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করেছে, যা গণতন্ত্রে তাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি ও বৈদেশিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
