নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর পোশাক তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার ৮জন আসামিকে একই অভিযোগে নগরের পাহাড়তলী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৬ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে চিফ মেট্রোাপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দিয়েছেন। গত ২৮ মে নগরের পাহাড়তলী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি (এফআইআর নং-২৭) দায়ের করা হয়।
এই মামলায় যাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ হয়েছে তারা হলেন বায়েজিদ বোস্তামি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় (নং ৪২) গত ১৮ মে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রিংভো অ্যাপারেলসের মালিকসাহেদুল ইসলাম, গোলাম আজম, নিয়াজ হায়দার এবং একই মামলায় গত ২ জুন গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এছাড়া পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. তারিকুল ইসলাম, মো. তৌহিদুল ইসলাম, জামালুল ইসলাম ও মো. আতিকুর রহমান।
জানা গেছে, গত ৩ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত নগরের দুটি পোশাক কারখানা, গুদাম ও একটি ভবন থেকে তিনটি পৃথক অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসব অভিযানে কেএনএফ’র ৪৭ হাজার ৮৫টি পোশাক জব্দের পাশাপাশি ৩১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের কাপড় (কেএনএফ পোশাকের) জব্দ করে পুলিশ। কেএনএফ’র পোশাক জব্দের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে চলতি মাসের ২ তারিখ। সেদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের অক্সিজেন পশ্চিম শহীদ নগর তৈয়বিয়া হাউজিং সোসাইটির জনৈক জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন ভবনের চারতলার ১নং কক্ষ থেকে মো. সুরুজ্জামান মিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় পুলিশ সুরুজ্জামানের হেফাজত থেকে ৩১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের থান কাপড় (কেএনএফ সিলযুক্ত) জব্দ করে।
পুলিশ জানায়, এই মামলার (৪২) গ্রেপ্তার হওয়া উক্ত তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে আলোচ্য মামলার চার নং পলাতক আসামি মংহ্লাসিন মারমা (৩৭) পাহাড়তলী থানার ডি৪টি রোডে সিকান্দর ভিলায় ‘নুর ফ্যাশন এন্ড গার্মেন্টস’ বিপুল পরিমাণ কেমো ফেব্রিক্স কুকিচিন আর্মির পোশাক শিপমেন্টের ব্যবস্থা করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে মংহ্লাসিন মারমাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে গত ২৭ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মংহ্লাসিন মারমা পালিয়ে যান। এ সময় নুর ফ্যাশন এন্ড গার্মেন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মতিউর পুলিশকে জানান, মো. সাহেদ তার ব্যবসায়িক পার্টনার। তারা দুজনে মিলে নিষিদ্ধ সংগঠন কুকিচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর পোশাক নিজেদের কারখানায় প্রস্তুত করছেন।
গত ২৭ মে রাতে নগরের পাহাড়তলী থানার একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ইউনিফর্ম জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। অভিযানে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে একই থানার পুলিশ নগরের নয়াহাট এলাকার একটি গুদাম থেকে ১১ হাজার ৭৮৫ পিস ইউনিফর্ম জব্দ করে।
এর আগে গত ১৭ মে রাতে নয়াহাটে অবস্থিত ‘রিংভো অ্যাপারেলস’ কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম জব্দ করেছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় কারখানা মালিক সাহেদুল ইসলাম, মো. গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দারকে। আজম ও নিয়াজ পোশাক তৈরির অর্ডার এনেছিলেন। সাহেদুল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগড়িয়া আমিরখিল এলাকার বাসিন্দা, মো. গোলাম আজমের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকায়। নিয়াজের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। এই তিনজনকে দুই দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।
